ভোটের আগে কথা দেওয়া হয়েছিল রাজ্যে নারী নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। কিন্তু নতুন সরকার আসার মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে রাজ্যে অন্তত ৪৮টি নারী নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে ধর্ষণ, খুন ও শ্লীলতাহানির মতো ভয়াবহ সব অপরাধ রয়েছে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক মহিলা—নিরাপত্তা পাচ্ছেন না কেউই। ফলে রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
গত আড়াই মাসে রাজ্যের নানা প্রান্তে একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মে মাসে সল্টলেক, দুর্গাপুর ও বেহালায় পর পর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটে। জুন ও জুলাই মাসে কৃষ্ণনগর, চন্দননগর, শান্তিনিকেতন, সোনারপুর, হাবড়া, বারুইপুর এবং ঝাড়গ্রামের মতো বহু জায়গায় নারী ও শিশুদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়েছে। ঝাড়গ্রামে তো এক মহিলাকে তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করার পর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা পর্যন্ত করা হয়। তমলুক ও বিধাননগরেও ছোট শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের খবর এসেছে।
অপরাধ দমনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করলেও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বিশেষ পরিবর্তন আসেনি। বিরোধীদের অভিযোগ, অপরাধ রুখতে না পেরে প্রশাসন আইনি পথ ছেড়ে এনকাউন্টারের পথ ধরছে, যা কোনোভাবেই আসল বিচার হতে পারে না। সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সব মহল।


