তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া তিন সংখ্যালঘু সাংসদকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠানের তৃণমূলে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে তাঁদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়ের মন্তব্য।
সূত্রের খবর, তৃণমূলের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদের সঙ্গে ওই তিন সাংসদের নামও ছিল, যাঁরা পরে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন পরিবর্তন দেখা যায়। এনসিপিআইয়ের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর দিকে ঝোঁকার বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই কয়েকজন সাংসদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
সম্প্রতি এনডিএর একটি বৈঠকে আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠানের উপস্থিতি না থাকায় তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। যদিও এই বিষয়ে তিন সাংসদের পক্ষ থেকে এখনও কোনও স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই জল্পনার মধ্যেই তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় দাবি করেছেন, দলের সঙ্গে বেশ কয়েকজন সাংসদের যোগাযোগ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ওই তিন সংখ্যালঘু সাংসদও রয়েছেন বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। সৌগত রায়ের বক্তব্য, দল ছাড়ার পর অনেক সাংসদই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন এবং তাঁরা নতুন করে ভাবনাচিন্তা করছেন।
সৌগত রায় বলেন, অনেকের সঙ্গেই দলের যোগাযোগ রয়েছে। তৃণমূল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক মঞ্চে যাওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। সেই কারণে বেশ কিছু সাংসদ নিজেদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে তাঁরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।
তৃণমূলের এই প্রবীণ নেতা আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব অবগত রয়েছেন। যদি ওই সাংসদরা আবার দলে ফিরে আসেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে যে পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলছে, তা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সংসদের বাদল অধিবেশন উপলক্ষে দিল্লিতে রয়েছেন ওই তিন সাংসদ। তবে এনডিএর বৈঠকে তাঁদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। বিজেপির সঙ্গে এনসিপিআইয়ের ঘনিষ্ঠতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পর থেকেই তাঁদের তৃণমূলে ফেরার বিষয়টি নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত ওই তিন সাংসদ কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

