প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করার অভিযোগে এক তরুণীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, ছাত্র-যুবদের ভয় দেখিয়ে আন্দোলনের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।শুক্রবার সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে চাপে ফেলে চুপ করানো সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারী তরুণ-তরুণীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা, মামলা এবং সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।এই বিতর্কের সূত্রপাত ২৩ জুলাইয়ের একটি ঘটনার জেরে। নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন চলছিল। অভিযোগ, সেই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নয়ডার বাসিন্দা ২৫ বছরের রুচিকা সিং প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন।এরপর গাজিয়াবাদের এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে একটি জিরো এফআইআর নথিভুক্ত হয়। পরে মামলাটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় পাঠানো হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় রুচিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তাঁকে খুঁজতে দিল্লি ও নয়ডা পুলিশের দল একাধিকবার তাঁর বাড়িতেও যায়।রুচিকার পরিবারের দাবি, ঘটনার পর তিনি পুলিশের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁর মা জানিয়েছেন, মেয়ের মন্তব্যের জন্য পরিবার দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলেও জানানো হয়েছে।অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র পক্ষ থেকেও এই মামলার বিরোধিতা করা হয়েছে। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, কেউ আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করলে প্রয়োজন হলে মানহানির মামলা হতে পারে, কিন্তু সরাসরি ফৌজদারি মামলা করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, অশালীন ভাষা সমর্থনযোগ্য নয়, তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।সৌরভ দাস আরও দাবি করেন, দেশের বহু জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। তাই শুধুমাত্র এক তরুণীকে লক্ষ্য করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা উচিত। পাশাপাশি তিনি তরুণদেরও প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখার সময় সংযত ভাষা ব্যবহারের পরামর্শ দেন।উল্লেখ্য, নিট আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আগের মামলাগুলি প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তির সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ, অন্য উপায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও প্রশাসনিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এই অভিযোগ ঘিরেই রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে।
Popular Categories


