সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিয়মিত সংসদ ভবনে এলেও গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের সময় তাঁরা লোকসভা বা রাজ্যসভায় উপস্থিত থেকে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না। এই অভিযোগকে সামনে রেখেই প্রায় প্রতিদিন সংসদে সরব হচ্ছে বিরোধীরা।এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ নিয়ে ওঠা অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সোমবারও এই ইস্যুতে সংসদে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে বিরোধী শিবির। ফলে অধিবেশনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।গত শুক্রবার সংসদ চত্বরে কংগ্রেসের সাংসদরা পথনাটিকার মাধ্যমে রামমন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অবধেশ প্রসাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি। তবে সেই পদক্ষেপে পিছিয়ে আসেনি কংগ্রেস।রবিবার অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে দলের রাজ্যসভার উপনেতা প্রমোদ তিওয়ারি বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর দাবি, রামমন্দিরে শুধু অনুদানের অর্থ নয়, সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকেও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভক্তদের দেওয়া অর্থের অপব্যবহার হয়েছে এবং এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।প্রমোদ তিওয়ারি বলেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত শুধু ছোট স্তরের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু যদি বড় কোনও চক্র জড়িত থাকে, তবে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।রামমন্দির নির্মাণ নিয়েও বিজেপিকে নিশানা করেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর দাবি, মন্দির নির্মাণের কৃতিত্ব রাজনৈতিকভাবে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে বিজেপি। পাশাপাশি জমি কেনা, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং সাজসজ্জার খরচ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসব ক্ষেত্রেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।পথনাটিকা নিয়ে বিজেপির অভিযোগেরও জবাব দেন প্রমোদ তিওয়ারি। তাঁর প্রশ্ন, যদি প্রতিবাদের জন্য ধর্মীয় পোশাক ব্যবহার করাকে অপরাধ বলা হয়, তাহলে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে রামলীলা বা অন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেও কি একই ধরনের অভিযোগ করা হবে? তিনি আরও বলেন, গেরুয়া পোশাক কোনও রাজনৈতিক দলের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়।কংগ্রেসের এই ধারাবাহিক আক্রমণের জেরে সংসদের অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। অন্যদিকে, বিজেপি এখনও পর্যন্ত বিরোধীদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই দাবি করে আসছে। ফলে রামমন্দিরের অনুদান বিতর্ক এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আগামী দিনেও জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে থাকতে পারে।
Popular Categories


