বিহারের জামুইয়ে এক কিশোরী ও তার বন্ধুকে ঘিরে মারধর এবং হেনস্থার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও বাড়ল। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বিহারের ক্রীড়ামন্ত্রী তথা জামুইয়ের বিধায়ক শ্রেয়সী সিংহের একটি মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি করেছে। তাঁর বক্তব্য, কারও জীবনযাপন নিয়ে আপত্তি থাকলেও তা প্রকাশের পদ্ধতি আরও সংযত হওয়া উচিত। তবে জামুইয়ের ঘটনায় যে ভাবে কিশোর-কিশোরীর সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে, তা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি জামুইয়ের মারওয়া পাহাড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় টিউশন শেষ করে এক কিশোরী তার এক বন্ধুর সঙ্গে ওই এলাকায় গিয়েছিল। বাড়ি ফেরার সময় কয়েক জন যুবক তাদের পথ আটকায়। অভিযোগ, প্রায় সাত-আট জনের একটি দল দু’জনকে ঘিরে ধরে নানা প্রশ্ন করতে থাকে। পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তারা অনুরোধ করলেও যুবকেরা তাদের ছাড়েনি।
অভিযোগ রয়েছে, ওই কিশোরকে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে কিশোরীর সঙ্গেও অশালীন আচরণ করা হয়েছে। ঘটনার কিছু ভিডিয়ো পরে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ওই দুই কিশোর-কিশোরীকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা যায়। তাদের ক্ষমা চাইতে এবং ভবিষ্যতে ওই এলাকায় আর না যাওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিয়োয় কয়েক জনকে তাদের বিয়ে দেওয়ার কথাও বলতে দেখা যায়। একটি দৃশ্যে এক যুবক কিশোরীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োগুলির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি।
ঘটনার পর পুলিশ তদন্তে নামে। এখনও পর্যন্ত সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত নন্দন যাদব পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। তাঁর পায়ে গুলি লেগেছে এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এর আগে বিহারের আর এক মন্ত্রী শ্রাবণ কুমার ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য নিয়েও বিরোধীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছিল। তার পরেই শ্রেয়সী সিংহের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে শ্রেয়সী জানান, প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মতামত প্রকাশের অধিকার থাকতে পারে। কিন্তু সেই মত প্রকাশের নামে কাউকে অপমান, মারধর বা হেনস্থা করা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োগুলির দৃশ্যকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও উল্লেখ করেছেন।

