লেখিকা তসলিমা নাসরিন আবারও তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। রবিবার কলকাতার বাংলা অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি মাদ্রাসা, ধর্ম, ছাত্র আন্দোলন এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড) নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
তসলিমা নাসরিনের অভিযোগ, দেশের কিছু মাদ্রাসা এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে উগ্রপন্থী মানসিকতার মানুষ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, অনেক মাদ্রাসায় শিশুদের উপর নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটে। তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থায় এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। তাঁর মতে, অধিকাংশ মাদ্রাসার উপর সরকারের যথাযথ নজরদারি নেই। ছোটবেলা থেকেই সেখানে পড়ুয়াদের অমুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণার শিক্ষা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভোটের কথা মাথায় রেখে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে চায় না। এর ফলে উগ্রপন্থা বাড়ার সুযোগ পায়। তসলিমার দাবি, দেশের সমস্ত মাদ্রাসাকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত এবং শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে বহু মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী সাধারণ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা বা দক্ষতা অর্জন করতে পারেন না। তাই তিনি প্রস্তাব দেন, মাদ্রাসাগুলিকে ধীরে ধীরে সাধারণ ধর্মনিরপেক্ষ স্কুলে রূপান্তর করা উচিত। পাশাপাশি তিনি বলেন, শুধু মাদ্রাসা নয়, মসজিদ-সহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিও সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা দরকার। তাঁর মতে, অতিরিক্ত সংখ্যায় ধর্মীয় স্থাপনার প্রয়োজন নেই।
ধর্ম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসা প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, তিনি এমন সব ধর্মীয় রীতি ও প্রথার বিরোধিতা করেন, যেগুলি নারীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করে। সমাজে পরিবর্তন আনতে ধর্মের সমালোচনা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই ধরনের মত প্রকাশের কারণেই তাঁকে বাংলাদেশ ছেড়ে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হচ্ছে।
দিল্লিতে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন নিয়েও নিজের মত প্রকাশ করেন তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেন, সেই আন্দোলনের দৃশ্য দেখে তাঁর বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের কথা মনে পড়েছে। তাঁর দাবি, পরে সেই আন্দোলনে উগ্রপন্থী শক্তির প্রভাব দেখা গিয়েছিল। তাই সব ছাত্র আন্দোলন যে ইতিবাচক ফল নিয়ে আসে, এমনটা মনে করার কারণ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়াও তিনি গোটা দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পক্ষে মত দেন। তাঁর বক্তব্য, “এক দেশ, এক আইন” নীতি কার্যকর হলে ধর্ম নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একই দেওয়ানি আইন প্রযোজ্য হবে এবং আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, মুসলিম পরিবারে জন্ম হলেও তসলিমা নাসরিন নিজেকে নাস্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদী হিসেবে পরিচয় দেন।


