ভারতীয় জীবন বিমা নিগম বা LIC-এর বিনিয়োগ ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে শিল্পপতি অনিল আম্বানি এবং রিলায়্যান্স ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI। LIC-এর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই FIR করা হয়েছে। মামলায় রিলায়্যান্স ক্যাপিটালের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনিল আম্বানি, রিলায়্যান্স অনিল ধীরুভাই আম্বানি গোষ্ঠীর গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর সতীশ শেঠ, কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় সরকারি কর্মী এবং আরও কয়েক জনের নাম রয়েছে।
CBI জানিয়েছে, LIC-এর অভিযোগ অনুযায়ী এই ঘটনায় প্রায় ২,৬৮৪.৫৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে রিলায়্যান্স ক্যাপিটালের পাঁচটি নন-কনভার্টিবল ডিবেঞ্চারে মোট ৩,৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল LIC। সংস্থার অভিযোগ, এই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল এবং পরে সেই অর্থের একটি অংশ অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়।
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগের তালিকায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, হিসাবপত্রে কারচুপি এবং অর্থের অপব্যবহারের মতো বিষয় রয়েছে। তবে এগুলি এখনও অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে CBI। একই সঙ্গে বিনিয়োগ করা অর্থ শেষ পর্যন্ত কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এই মামলায় শুধু বেসরকারি সংস্থার কর্তাদের নয়, কোনও সরকারি কর্মীর ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখবে CBI। তদন্তকারীরা পুরো আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করবেন। অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের ভূমিকাও তদন্তে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে CBI-এর তদন্ত অবশ্য নতুন নয়। এর আগে রিলায়্যান্স কমিউনিকেশনস, রিলায়্যান্স ক্যাপিটাল, রিলায়্যান্স হোম ফাইনান্স, রিলায়্যান্স কমার্শিয়াল ফাইনান্স এবং রিলায়্যান্স টেলিকম-সহ একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করেছে তদন্তকারী সংস্থা। CBI-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের আগের মামলাগুলির মধ্যে ছ’টিতে চার্জশিট জমা পড়েছে এবং সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাগুলি এখনও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।
নতুন FIR নিয়ে অনিল আম্বানির পক্ষ থেকে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁর মুখপাত্র জানিয়েছেন, CBI-এর মামলা মূলত রিলায়্যান্স ক্যাপিটালকে ঘিরে। আম্বানি ২০০৫ সাল থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সংস্থার নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সংস্থার পরিচালন পর্ষদ সরিয়ে একজন প্রশাসক নিয়োগ করে। তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনিল আম্বানি কোনও বেআইনি কাজ করেননি এবং তিনি আইনিভাবেই এই অভিযোগের মোকাবিলা করবেন।


