রাজনীতির সমীকরণ বদলালেও নিজেদের অবস্থানে আপাতত কোনও পরিবর্তন আনতে চাইছেন না তৃণমূল ছেড়ে আসা তিন সংখ্যালঘু সাংসদ। মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হলেও বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচি বা এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা স্পষ্টভাবে অনীহা প্রকাশ করেছেন। এই বৈঠকটি গত দু’সপ্তাহে দু’বার পিছিয়ে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। তবে ব্যক্তিগত কারণে সাংসদ দেব উপস্থিত থাকতে পারেননি। এদিন সংসদে এনডিএ-র একটি বৈঠক হলেও ওই তিন সাংসদ সেখানে যাননি। এর আগেও একই ধরনের বৈঠক থেকে তাঁরা নিজেদের দূরে রেখেছিলেন। অন্যদিকে, নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআইয়ের একাধিক সদস্য সেই বৈঠকে যোগ দেন।
বঙ্গভবনে মধ্যাহ্নভোজের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে আবু তাহের খান বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, জেলার কৃষকরা এখনও পাটের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। এছাড়াও এলাকার পরিকাঠামো, উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের একাধিক দাবি লিখিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন তিনি।
বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আবু তাহের জানান, এলাকার স্বার্থেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এনসিপিআইয়ের সদস্য হলেও বিজেপির কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেবেন না। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, সংসদে সংখ্যালঘুদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনও বিল এলে তা সমর্থনের প্রশ্নই ওঠে না।
এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হলেও শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলেই ব্যাখ্যা করেন।
বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তিন সংখ্যালঘু সাংসদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে এবং একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজও করেছেন। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, বর্তমানে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে থাকা সদস্যসংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যদিও নতুন কারা যোগ দিতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি কোনও নাম প্রকাশ করেননি। তাঁর দাবি, আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণে আরও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।


