কলকাতা হাইকোর্টে গুন্ডা দমন আইনকে ঘিরে হওয়া একটি মামলার শুনানিতে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্য বিধানসভায় আইনটি পাস হলেও এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মেলেনি। এই বক্তব্য সামনে আসার পর বিরোধী শিবির মুখ্যমন্ত্রীর আগের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই মামলাটি দায়ের করেছিল অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স ইউনিয়ন (আইলু)। মামলাকারীদের দাবি ছিল, যে আইন এখনও কার্যকর হয়নি, সেই আইনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন। তাই আদালতের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করার আবেদন জানানো হয়।
মামলাকারীদের আইনজীবী শামিম আহমেদ শুনানির পর সাংবাদিকদের জানান, আদালতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং ডেপুটি অ্যাডভোকেট জেনারেল স্বীকার করেছেন যে সংশ্লিষ্ট আইন এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে স্পষ্ট হয়েছে যে আইনটি এখনও কার্যকর হয়নি। তাই এই আইন প্রয়োগের কথা বলা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শামিম আহমেদের আরও বক্তব্য, আদালত এই মুহূর্তে মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে। তবে বিচারপতি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যদি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মেলে এবং আইন কার্যকর হয়, তাহলে এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে মামলা করা যেতে পারে। ফলে বিষয়টি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলেই মনে করছেন মামলাকারীরা।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বারুইপুরে এক নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং ধর্মতলায় সিজেপি-র আন্দোলনের পর মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগের কথা বলেছিলেন। বিধানসভার অধিবেশনেও তিনি একই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। সেই মন্তব্যের পর থেকেই বিরোধী দলগুলির একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করে যে আইনটি আদৌ কার্যকর হয়েছে কি না।
হাইকোর্টে রাজ্যের বক্তব্য সামনে আসার পর বিরোধীরা দাবি করছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য এবং আদালতে সরকারের অবস্থানের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। অন্যদিকে, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত আইনটি কার্যকর হবে না। অনুমোদন মিললে ভবিষ্যতে আইনটি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পথ খোলা থাকবে বলেও আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে বিরোধীরা সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে আইনি মহলের একাংশের মতে, কোনও আইন কার্যকর হওয়ার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদন কবে মেলে এবং তার পরে আইনটি নিয়ে কী পদক্ষেপ হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।


