উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির একটি পুরনো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্লাবকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এলাকার পরিচিত প্রতিষ্ঠান ‘বিপ্লবী সঙ্ঘ’-এ বিজেপির দলীয় পতাকা লাগানো এবং ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার জেরে ক্লাব কর্তৃপক্ষ থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। বহু বছর ধরে এলাকার বাসিন্দাদের নানা অনুষ্ঠানের কেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত ছিল এই প্রতিষ্ঠান। তবে কয়েক বছর আগে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে ক্লাবের পরিচালনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। সেই সময় ক্লাব ভবনটি স্থানীয় বিধায়কের কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও ক্লাবের নাম বা সদস্যদের প্রবেশে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের পর ক্লাবের দায়িত্ব আবার সদস্যদের হাতে ফিরে আসে। এরপর একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে ক্লাবকে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সদস্যদের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে সেখানে শুধুমাত্র সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজই হয়েছে এবং কোনও রাজনৈতিক দলের প্রভাব রাখা হয়নি।
ক্লাব কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বৈঠকের জন্য ক্লাব ভবনের চাবি চাওয়া হয়। বৈঠক শেষ হওয়ার পর ভবনে নতুন তালা লাগানো হয় এবং ক্লাব চত্বরে বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির পতাকা টাঙানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, ক্লাবের অনুমতি ছাড়াই এই কাজ করা হয়েছে। এরপর ক্লাবের পক্ষ থেকে করণদিঘি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করলেও তার কোনও লিখিত প্রাপ্তিস্বীকার দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ক্লাবের আহ্বায়ক শ্যামল কান্তি রায়ের দাবি, ক্লাবকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে এলাকার মানুষের কাজে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনার ফলে সেই পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ক্লাবেরই এক সদস্য এবং বিজেপি কর্মী অনিরুদ্ধ সাহার বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে ক্লাব পরিচালনা হওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, ক্লাবের নিজস্ব সামাজিক চরিত্র বজায় রাখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিজেপির জেলা মহিলা মোর্চার সাধারণ সম্পাদিকা শম্পা মহন্ত ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এলাকার মহিলারা সমাজসেবামূলক কাজের উদ্দেশ্যে ক্লাব ব্যবহার করতে চান। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। জেলা বিজেপির মুখপাত্র কেশবানন্দ পাল বলেন, বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নজরে আসেনি। তবে তাঁর দাবি, কোনও ক্লাব দখল করে রাজনীতি করা বিজেপির নীতি নয়।


