বিগত ১২টি অর্থবর্ষে বৃহৎ শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রের সংস্থাগুলির প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ ব্যাংকের খাতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চলতি বাদল অধিবেশনে সংসদে এক লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই তথ্য সামনে আসার পর বড় সংস্থাগুলির ঋণ মকুব এবং ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী সংসদে জানিয়েছেন, রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ অর্থবর্ষে বৃহৎ শিল্প ও পরিষেবা সংস্থাগুলির মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। পরের অর্থবর্ষে সেই অঙ্ক আরও বেড়ে ৬৯ লক্ষ ২১ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরের মধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলির ঋণ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ব্যাংকের হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ওই বছরে প্রায় ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকার ঋণ রাইট-অফ করা হয়।তবে রাইট-অফ মানেই ঋণগ্রহীতাকে পুরোপুরি ঋণ থেকে মুক্ত করে দেওয়া নয় বলে সংসদে স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র। মন্ত্রীর বক্তব্য, আরবিআইয়ের ‘রেজোলিউশন অফ স্ট্রেসড অ্যাসেটস ডিরেকশনস ২০২৫’ অনুযায়ী, রাইট-অফ মূলত ব্যাংকের হিসাবের একটি পদ্ধতি। এর মাধ্যমে ব্যাংক তাদের ব্যালেন্স শিটে অনাদায়ী ঋণের হিসাব সামঞ্জস্য করে। এর পরেও সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চালানো যেতে পারে।এই তথ্য এমন সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন দেশের একাধিক বড় ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। বিজয় মালিয়া, নীরব মোদি এবং মেহুল চোকসির মতো ব্যবসায়ীদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করানো নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিরোধীরা বারবার প্রশ্ন তুলেছে।এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আরবিআইয়ের হিসাব অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত সাড়ে পাঁচ বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলি মোট ৬ লক্ষ ১৫ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকার ঋণ রাইট-অফ করেছে।সংসদে প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যান সামনে আসায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় কর্পোরেট ঋণের ভূমিকা এবং ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বিপুল অঙ্কের ঋণ রাইট-অফ হওয়ার পর বাস্তবে কত টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়েও নজর রয়েছে।
Popular Categories


