কোচবিহারের শীতলকুচিতে ফোন করে এক ব্যবসায়ীর ছেলেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, যুবককে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। পরে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের। এই ঘটনায় স্থানীয় এক বিজেপি নেতার নাম উঠে আসায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে। শীতলকুচি ব্লকের বামনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সইজার মিয়াঁ সোমবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর বড় ছেলে ইসমাইল মিয়াঁ গোঁসাইরহাট বাজারের ধানহাটিতে ছিলেন। সেই সময় একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাঁকে শীতলকুচি সেন্ট্রাল ব্যাংকের সামনে যেতে বলা হয়।ইসমাইল সেখানে পৌঁছনোর পর তাঁকে বিডিও অফিসের কাছাকাছি একটি জায়গায় যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ। সেখানে যাওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি জোর করে তাঁকে বাইকে তুলে নেয়। এরপর তাঁকে একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। পাশাপাশি অস্ত্র দেখিয়ে টাকা চাওয়া হয়।পরিবারের দাবি, শেষ পর্যন্ত ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার পর গভীর রাতে ইসমাইলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পরিবার। থানায় দেওয়া অভিযোগে যে মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল, সেটিও উল্লেখ করেছেন সইজার মিয়াঁ।পরিবারের দাবি, ওই নম্বরটি শীতলকুচির বিজেপির ২৩০ নম্বর বুথের সভাপতি দীপু বর্মনের নামে রয়েছে। সেই কারণেই ঘটনায় রাজনৈতিক যোগের প্রশ্ন উঠেছে। যদিও অভিযোগের সঙ্গে নিজের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন দীপু বর্মন। তাঁর বক্তব্য, তিনি সইজার মিয়াঁকে চেনেন না এবং অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।বিজেপির ৬ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক কমলকান্তি রায় জানিয়েছেন, বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেই জানিয়েছেন তিনি।অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যবসায়ীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে নম্বর থেকে যুবককে ফোন করা হয়েছিল, সেটি-সহ অন্যান্য তথ্যও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে পুলিশের তরফে চূড়ান্তভাবে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়নি।অপহরণের অভিযোগ, মুক্তিপণের টাকা দেওয়া এবং তার সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতার নাম জড়িয়ে পড়ায় শীতলকুচিতে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তদন্তের পরই ঘটনার আসল কারণ এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিল, তা স্পষ্ট হবে।
Popular Categories


