পিএম কেয়ার্স ফান্ডে থাকা বিপুল অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বুধবার দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দাবি করেন, এই তহবিলে পড়ে থাকা টাকা দিয়ে দেশের গ্রামীণ এলাকায় উন্নত মানের স্কুল তৈরি করা যেতে পারে। তাঁর প্রশ্ন, এত টাকা থাকার পরেও কেন তা বছরের পর বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকবে।
অভিজিৎ দীপকের বক্তব্য, প্রায় ৮,৪৫২ কোটি টাকা দিয়ে গ্রামাঞ্চলে অন্তত এক হাজার আধুনিক স্কুল গড়ে তোলা সম্ভব। সেই স্কুলগুলিতে উন্নত প্রযুক্তি, ভালো শ্রেণিকক্ষ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা গেলে উপকৃত হবে গ্রামের বহু ছাত্রছাত্রী। তাঁর মতে, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে স্কুলের পরিস্থিতি দেখার কথা জানিয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর দাবি, গ্রাম, ব্লক এবং মহকুমা স্তরের বহু স্কুলেই এখনও ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। কোথাও নিয়মিত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই, কোথাও স্কুলের ভবন বা ছাদ নিয়ে সমস্যা রয়েছে। আবার অনেক জায়গায় প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যাও কম। মিড-ডে মিল নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই পিএম কেয়ার্স ফান্ডের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারের কাছে জবাব চেয়েছেন দিপকে। তাঁর বক্তব্য, বিপুল অর্থ যদি পড়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থের একটি অংশ দেশের প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলির উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে। এতে পড়াশোনার পরিবেশ যেমন উন্নত হবে, তেমনই গ্রামের পড়ুয়াদেরও শহরের ছাত্রছাত্রীদের মতো আধুনিক সুযোগ পাওয়ার পথ খুলবে।
তবে শুধু সিজেপি নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে বলেও দাবি উঠেছে। উত্তরপ্রদেশের লখনউ ও ফতেপুরের পর বুধবার উন্নাওয়ের পড়ুয়ারাও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে। স্কুলের বিভিন্ন সমস্যা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার দাবিতে তারা রাস্তা অবরোধ করে।
অন্যদিকে চণ্ডীগড়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা পরিকাঠামোর উন্নতির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ ক্রমশ বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে আসছে। এই পরিস্থিতিতে পিএম কেয়ার্স ফান্ডের অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে এবং শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়নে সেই অর্থের কোনও অংশ কাজে লাগানো যায় কি না, তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


