৬ অক্টোবর ভোট, ৯ অক্টোবর গণনা। তার আগেই ২৫ জন কাউন্টিং এজেন্টের নথি জমার নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ভোটের ঠিক আগে গণনার দিন কাউন্টিং এজেন্ট নিয়োগ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে নির্দেশিকা জারি করে কাউন্টিং এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের সমস্যায় ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।১ অক্টোবর জারি করা মেমো নম্বর 142(15)/70-RO/26 অনুযায়ী, ৭০-রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ভোট গণনা হবে আগামী ৯ অক্টোবর বহরমপুর গার্লস কলেজে। নির্দেশিকায় ২৫ জন কাউন্টিং এজেন্টের নাম এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় নথি—পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ভোটার আইডি কার্ডের প্রতিলিপি-সহ অন্যান্য তথ্য—৪ অক্টোবরের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।বিরোধীদের দাবি, ১ অক্টোবর ইস্যু হওয়া এই চিঠি তাঁদের হাতে পৌঁছয় ৪ অক্টোবর দুপুর ১টা ৫ মিনিটে। ফলে নির্দেশিকা হাতে পাওয়ার পর কার্যত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২৫ জন এজেন্টের নাম, ছবি ও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে জমা দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ তাদের।সিপিএম, কংগ্রেস, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি-সহ একাধিক বিরোধী দলের বক্তব্য, এত অল্প সময়ে ২৫ জন কাউন্টিং এজেন্টের প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। তাঁদের অভিযোগ, এর ফলে গণনার সময় বিরোধী দলগুলির পক্ষে সমস্ত টেবিলে উপযুক্ত এজেন্ট নিয়োগ করা সমস্যার হয়ে উঠতে পারে।বিরোধী শিবিরের আরও অভিযোগ, প্রশাসনিক নির্দেশিকা এত দেরিতে হাতে পৌঁছনোর বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। তাঁদের দাবি, এর নেপথ্যে কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।রেজিনগরে ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর গণনা। তার আগে কাউন্টিং এজেন্ট নিয়োগ নিয়ে এই বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। এখন প্রশ্ন, বিরোধীদের অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

