অযোধ্যায় কংগ্রেসের একটি ভোজসভাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাইকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে মাছের পদ পরিবেশন করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই কংগ্রেসকে নিশানা করেছে বিজেপি। পাল্টা জবাব দিয়েছে কংগ্রেসও।
রামমন্দিরের শহর অযোধ্যায় এমন একটি অনুষ্ঠানে মাছ পরিবেশন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ বিজেপির একাধিক নেতা। তাঁদের বক্তব্য, শ্রাবণ মাস চলাকালীন অযোধ্যার মতো ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মাছের আয়োজন মানুষের ধর্মীয় আবেগে আঘাত করতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, একদিকে দলের নেতারা হনুমানগড়ি মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করছেন, অন্যদিকে তাঁদের অনুষ্ঠানে মাছ পরিবেশন করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের এই আচরণ হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগের প্রতি অসম্মান।
বিজেপির আক্রমণের জবাব দিয়েছেন কংগ্রেস নেতারাও। দলের সাংসদ পবন খেরা দাবি করেন, অজয় রাই নিজে নিরামিষ খাবার খান। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে মানুষের নজর সরাতেই বিজেপি এই বিতর্ক তৈরি করছে।
অজয় রাইও সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিজেপিকে। তাঁর বক্তব্য, তিনি মাছ খাচ্ছেন এমন কোনও ছবি বিজেপি নেতারা দেখাতে পারলে তিনি পদ ছেড়ে দেবেন। একইসঙ্গে তিনি পাল্টা বলেন, যদি এমন কোনও ছবি দেখাতে না পারেন, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথেরই পদত্যাগ করা উচিত।
তবে বিতর্কের মধ্যেই ভোজসভার বেশ কিছু ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। সেই ছবিতে রান্নার জায়গায় মাছ কাটার দৃশ্য এবং বড় পাত্রে ভাজা মাছ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের জন্য বড় তাঁবুও তৈরি করা হয়েছিল। রান্নার জায়গাটি কাপড় দিয়ে আলাদা করে রাখা হয়েছিল।
স্থানীয় কিছু মানুষ প্রথমে এই আয়োজনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, ভোজসভার আয়োজক কংগ্রেস নেতা রামনিহাল নিষাদ মাছ পরিবেশনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, দেশে মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আইনগত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি।
নিষাদ সম্প্রদায়ের মাছ ধরা ও মাছ খাওয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, কে কী খাবেন, সেই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর দেশের নাগরিকদের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
মাছের পদ ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন অযোধ্যার ধর্মীয় আবেগের গণ্ডি পেরিয়ে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতেও নতুন ইস্যু হয়ে উঠেছে। দুই দলের নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তাপ আরও বাড়ছে।


