কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই ফের জলমগ্ন হয়ে পড়ল হরিয়ানার গুরুগ্রাম। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও গাড়ি আটকে পড়ে, কোথাও আবার জল ঢুকে পড়ে বিভিন্ন এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই জল জমার কারণ এবং দায় কার, তা নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
গত ২৪ অগস্ট সকালে বৃষ্টির পর গুরুগ্রামের সাইবার সিটি এলাকার পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। সুভাষ চকের কাছে জলের মধ্যে আটকে পড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি। তার মধ্যে প্রায় ন’টি স্কুল বাসও ছিল। প্রায় ৩০০ পড়ুয়াকে দীর্ঘ সময় বাসের ভিতর অপেক্ষা করতে হয়। অন্য দিকে, দিল্লি-জয়পুর জাতীয় সড়কের একটি সার্ভিস লেনের অংশ ভেঙে গিয়ে বড় গর্ত তৈরি হয়। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামলাতে পরদিন জেলা প্রশাসন বিভিন্ন সংস্থাকে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দেয়।
এই জলাবদ্ধতার জন্য আগের কংগ্রেস সরকারকে দায়ী করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা গুরুগ্রামের বিজেপি সাংসদ রাও ইন্দ্রজিৎ সিং। তাঁর বক্তব্য, অতীতে অপরিকল্পিত ভাবে শহর গড়ে তোলার সময় আরাবল্লী এলাকার জল বেরিয়ে যাওয়ার প্রাকৃতিক পথগুলির অনেকটাই নষ্ট বা বন্ধ হয়ে যায়। সেই কারণে বৃষ্টির জল স্বাভাবিক পথে বেরোতে পারছে না। এখন যে নিকাশি ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, তা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
স্থায়ী সমাধানের জন্য পুরনো জল যাওয়ার পথ অনুসরণ করে মাটির নীচে বড় ড্রেনেজ টানেল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন ইন্দ্রজিৎ। তাঁর মতে, মেট্রোর সুড়ঙ্গের মতো ব্যবস্থা করা গেলে শহরের জমা জল দ্রুত সরানো সম্ভব হবে। এই প্রকল্পের জন্য অর্থের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় কাজ এগোনোর চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে বিজেপি সাংসদের বক্তব্যকে হাতিয়ার করে পাল্টা আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা প্রশ্ন তুলেছেন, গত কয়েক বছরে প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা পরিকাঠামোর পিছনে খরচ হওয়ার পরও কেন সামান্য বৃষ্টিতে শহরের এমন অবস্থা হয়। তাঁর অভিযোগ, দুর্বল নিকাশি ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল ভুগছেন সাধারণ মানুষ। জল জমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়াতেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গুরুগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানও এই সমস্যার অন্যতম কারণ। আরাবল্লীর পাদদেশে এবং স্বাভাবিক ঢালু জমিতে গড়ে ওঠা শহরটিতে জল দ্রুত নেমে যাওয়ার সুযোগ অনেক জায়গাতেই কমে গিয়েছে। তার সঙ্গে অপরিকল্পিত নির্মাণ এবং পুরনো জলনিকাশি পথ হারিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বাসিন্দাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। রাজনৈতিক তরজা চললেও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—স্থায়ী ভাবে কবে মিলবে এই জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি।


