পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে বিজেপির অন্দরের বিবাদ এবার প্রকাশ্যে চলে এল। অমৃতবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কেশবপুরে দলের প্রবীণ নেতা রঘুনাথ পণ্ডার বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপিরই একদল কর্মী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাতে দলীয় পতাকা নিয়ে তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মহিষাদল থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অমৃতবেড়িয়া পঞ্চায়েতে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই বিরোধ চলছে। সম্প্রতি সেই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে। গত ২১ অগস্ট পঞ্চায়েত প্রধান শুভ্রা পণ্ডার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন বিজেপির ছয় সদস্য। তবে অনাস্থাপত্রে তাঁরা কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তা উল্লেখ না থাকায় সেটি গ্রহণ করেনি প্রশাসন। বিডিও ওই প্রস্তাব বাতিল করে দেন।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার পঞ্চায়েত দফতরে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। প্রধান শুভ্রা পণ্ডার সঙ্গে দলের ভোলসরা বুথের সদস্য রীতা সাউ অধিকারীর বচসা ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় রীতাদেবী মাটিতে পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তাঁকে বাসুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রীতাদেবীর সমর্থনে পঞ্চায়েত অফিসে বিক্ষোভ দেখানো হয়। তার পরের দিনই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। এবার প্রধানের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপির কর্মীদের একাংশ রঘুনাথ পণ্ডার বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধানকে পদ থেকে সরানোর জন্য দলের ভিতরে পরিকল্পনা চলছে। তাঁদের দাবি, রঘুনাথ পণ্ডার মদতেই বিজেপির ছয় পঞ্চায়েত সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতেই এদিন বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছে।
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছেন রঘুনাথ পণ্ডা। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে উদ্দেশ্য করে ভিত্তিহীন কথা বলা হচ্ছে। সকাল থেকেই কয়েক জন তাঁর বাড়ির সামনে এসে জড়ো হয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশও এসেছে বলে জানান তিনি।


