মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা-১ ব্লকের মোহাম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে সভাকক্ষ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন সিপিএম-এর এলাকার কমিটির সদস্য মির্জা মামুন রেজা। অভিযোগের সঙ্গে পঞ্চায়েতের কাজের নথি, মাপজোক এবং খরচের হিসাব খতিয়ে দেখার দাবিও জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী মির্জা মামুন রেজার স্ত্রী উম্মে মাফুজা পারভিন মোহাম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪৪ নম্বর বুথ ও ৮ নম্বর সংসদের সিপিএম সদস্য। তাঁদের অভিযোগ, গ্রাম পঞ্চায়েতের মিটিং হলের নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে প্রথমে দুটি এনআইটি বা টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করা হয়েছিল। সেই কাজ শেষ হওয়ার পর নতুন করে টেন্ডার না ডেকেই প্রায় ২০ লক্ষ টাকার আরও একটি কাজ কোটেশনের মাধ্যমে করানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
শুধু তাই নয়, মিটিং হলের ফলস সিলিংয়ের কাজের খরচ নিয়েও বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নথিতে এই কাজের জন্য প্রায় ২২ লক্ষ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। অথচ বাস্তবে সেখানে অল্প কিছু ফলস সিলিং বসানো এবং ছ’টি পাখা লাগানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ওই কাজের প্রকৃত খরচ ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয় বলেই অভিযোগ তাঁদের।
এই অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ভগবানগোলা-১-এর বিডিও দফতরে লিখিতভাবে জানানো হয়। এরপর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু অসঙ্গতি নজরে এসেছে। বিশেষ করে কাজের মাপ সংক্রান্ত নথি এবং কোটেশনে দেওয়া তথ্যের মধ্যে একাধিক জায়গায় মিল পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে তদন্তের গতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় বিধায়ক রিয়াদ হোসেন বিডিওর উপর চাপ সৃষ্টি করে তদন্ত বন্ধ রাখা বা বিলম্বিত করার চেষ্টা করেছেন। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিধায়কের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। অভিযোগ, অন্যান্য পঞ্চায়েত সদস্যদের উপর চাপ তৈরি করে আগের তারিখ দেখিয়ে একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা চলছে। এই অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সরকারি অর্থে হওয়া কোনও কাজের ক্ষেত্রে কাগজে কত টাকা খরচ দেখানো হয়েছে এবং বাস্তবে কতটা কাজ হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। তাই বিল, মাপজোকের নথি, কোটেশন এবং মাঠে বাস্তবে সম্পন্ন হওয়া কাজ—সবকিছু মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার আবেদনও জানানো হয়েছে।


