দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ ঘিরে বড় তথ্য সামনে এসেছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর আওতায় রাজধানীর খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪৭.৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই তালিকা চূড়ান্ত হলে দিল্লির মোট ভোটার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। আগে যেখানে রাজধানীতে ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ, সেখানে তা কমে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৯৭.৫ লক্ষে।
অর্থাৎ, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর দিল্লির মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের নাম খসড়া তালিকায় আর নেই। যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বিভিন্ন কারণ দেখানো হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে বলা হয়েছে তাঁরা স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। আবার কারও নামের পাশে মৃত, অনুপস্থিত বা একই ব্যক্তির একাধিক নাম থাকার মতো কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু নাম ‘অন্যান্য’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। তবে এই ‘অন্যান্য’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
তবে খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাচ্ছে না। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা নিজেদের দাবি জানাতে পারবেন। ৩১ অগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটাররা নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে দাবি বা আপত্তি জানাতে পারবেন। সেই আবেদনগুলির শুনানি চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপর আগামী ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা।
এসআইআর-এর সময় ভোটারদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য গণনা ফর্মও দেওয়া হয়েছিল। দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় সেই ফর্ম ডিজিটাল করার কাজের গতিতেও পার্থক্য দেখা গিয়েছে। রোহিণীতে সবচেয়ে বেশি, ৮৩.৪ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাল করা হয়েছে। অন্যদিকে তুঘলকাবাদে এই হার ৫২.১ শতাংশ।
দিল্লি একমাত্র জায়গা নয়, যেখানে ভোটার তালিকা নিয়ে এই বড়সড় সংশোধন চলছে। এসআইআর-এর তৃতীয় পর্যায়ে মোট ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই কাজ চলছে। এর আগে কর্নাটকের খসড়া তালিকা থেকে ১৯ শতাংশের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। হরিয়ানায় এই হার ১৬ শতাংশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ১০.৮ শতাংশের বেশি।
বিহারে ২০২৫ সালে প্রথম দফায় এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে আরও ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য নিয়ে অবশ্য শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রকৃত ভোটারদের নাম ভুল করে বাদ পড়তে পারে এবং তার প্রভাব নির্বাচনের ফলেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরোধীরা ও বিভিন্ন মহল।
মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর-এর আইনি বৈধতা বহাল রাখলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে দেয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যক্তিকে ভারতীয় নাগরিক কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ফলে দিল্লির চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কত নাম ফিরে আসে, এখন নজর সেদিকেই।


