সাম্প্রতিক একটি সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের তীব্র সমালোচনা করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ দলের অর্থ তহবিলের একটি বিরাট অংশ ‘লিপস এন্ড বাউন’ নামক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে হস্তান্তরিত করা হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক সম্মেলনের এই ভিডিও ইতিমধ্যে নিজস্ব ফেসবুক প্রোফাইল দিয়ে শেয়ার করেছেন সদ্য NCPI তে যোগ দেওয়া তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। যার ফলস্বরূপ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।
নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, NCPI ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গে নিবন্ধিত হয়। দলের নথিভুক্ত ঠিকানা হাওড়ায় কুণ্ডু পরিবারের বাড়ি। একই বছর ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে NCPI প্রার্থী দেয়, কিন্তু নির্বাচনী ফলাফলে দলটি তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। ২০২৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ NCPI-তে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করলে দলটি আচমকাই জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক সম্মেলনের ভিডিও কাকলি ঘোষ দস্তিদার অ্যাকাউন্টে দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে, বাংলায় রাজনৈতিক ময়দানে ঋতব্রত তৃণমূল এবং NCPI কি প্রকাশ্যে কুস্তি এবং গোপনে দোস্তি করে চলছে? ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে NCPI-র কোনো সাংগঠনিক বৈঠকে এখনও প্রকাশ্যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে না। ফলে তাঁর সঙ্গে NCPI-র সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল থেকে বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের NCPI-তে যোগদান ঘিরে আইনি জটিলতাও পুরোপুরি কাটেনি। তাঁদের দলবদল এবং লোকসভায় পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। NCPI অবশ্য ২০ জন সাংসদকে নিয়ে সংসদে পৃথক জায়গা ও দফতর পাওয়ার দাবি জানিয়েছে। ফলে একদিকে ঋতব্রতের অবস্থান, অন্যদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ—দুই বিষয়েই নজর এখন রাজনৈতিক মহলের।

