দেশের অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশে পৌঁছনোর তথ্য সামনে আসতেই তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই পরিসংখ্যানকে দেশের অর্থনীতির শক্তি এবং উন্নতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে কংগ্রেসের দাবি, শুধু জিডিপির পরিসংখ্যান দেখিয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ছবি বোঝা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রভাব কতটা পড়েছে, সেটাই আসল প্রশ্ন।
মঙ্গলবার কংগ্রেস মুখপাত্র এবং বিশ্বব্যাংকের প্রাক্তন কর্মী সলমন সোজ এই প্রসঙ্গেই কেন্দ্রীয় সরকারকে একাধিক প্রশ্ন করেন। তাঁর বক্তব্য, অর্থনীতি যদি এত দ্রুত গতিতে এগিয়ে থাকে, তাহলে দেশের তরুণদের একটা বড় অংশ এখনও কাজের বাইরে কেন? তাঁর দাবি, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি যুবক-যুবতীদের মধ্যে বেকারত্বের হার এখনও প্রায় ১৬ শতাংশ। ফলে জিডিপি বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের পরিস্থিতিও আলোচনায় আনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সলমন সোজ নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, দেশে প্রায় ৮ কোটি তরুণ-তরুণী এমন রয়েছেন, যাঁরা বর্তমানে না পড়াশোনা করছেন, না কোনও কাজ করছেন। এই বিপুল সংখ্যক যুবকের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চান, তাহলে শুধুমাত্র জিডিপি বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে এত উচ্ছ্বাসের কারণ কী?
এর পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস মুখপাত্র। তাঁর প্রশ্ন, অর্থনীতির অবস্থা যদি এতটাই শক্তিশালী হয়, তাহলে এখনও কেন প্রায় ৮০ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দিতে হচ্ছে? তাঁর মতে, দেশের প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি বুঝতে হলে মানুষের আয়, চাকরি, জীবনযাত্রার খরচ এবং কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলিও দেখতে হবে।
চিনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন সলমন সোজ। প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর কথা বলছেন। দেশীয় পণ্য ব্যবহারের পাশাপাশি বিয়ে বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় খরচ এবং সোনা কেনার বিষয়েও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে চিনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি কেন এত বেশি, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সোজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত চিন থেকে প্রায় ১৩২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে, একই সময়ে চিনে ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল মাত্র ১৯.৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই দেশের বাণিজ্যে ব্যবধান যথেষ্ট বড়।
এই সমস্ত পরিসংখ্যান সামনে রেখে কংগ্রেসের বক্তব্য, অর্থনৈতিক বৃদ্ধির একটি সংখ্যা দিয়ে দেশের বাস্তব পরিস্থিতিকে বিচার করা ঠিক নয়। কর্মসংস্থান, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ এবং আমদানি-রফতানির ভারসাম্যের মতো বিষয়গুলির দিকেও কেন্দ্রকে নজর দিতে হবে।


