বর্ষার শুরু থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গাতেই জ্বর নিয়ে অসুস্থ হচ্ছেন বহু মানুষ। সেপ্টেম্বরের শুরুতেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এমন আবহাওয়া ডেঙ্গু-সহ বিভিন্ন সংক্রমণ ছড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে আক্রান্তের তথ্য গোপন না করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। জ্বর হলে সরকারি ব্যবস্থায় বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর কথাও জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, বর্তমানে রাজ্যে ১৪৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। গত বছরের তুলনায় এ বার আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কম বলে দাবি করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার হাজারের কাছাকাছি।
কলকাতাতেও কয়েকটি এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে। শহরের ১২টি ওয়ার্ডে আক্রান্তের সন্ধান মিললেও ৬১টি ওয়ার্ড এখনও ডেঙ্গুমুক্ত রয়েছে। জেলার মধ্যে মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
বৈঠকে পুরসভাগুলির ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কয়েকটি পুরসভায় প্রশাসনিক কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না এবং কোথাও কোথাও পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজেও গতি নেই।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ডেঙ্গুর তথ্য লুকিয়ে রাখা যাবে না। চিকিৎসকদেরও নির্ভয়ে ডেঙ্গু শনাক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, পুজোর পর পর্যন্ত সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। তাই আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হবে।


