কলকাতার পুর এলাকার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় নতুন মোড়। মামলাটি থেকে নিজেদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মামলাকারীকে চিঠি দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস বা ইসকন। তাদের দাবি, কলকাতা পুরসভা এলাকার কোনও স্কুলে মিড-ডে মিল রান্না বা সরবরাহের দায়িত্ব তাদের দেওয়া হয়নি। এমনকী পশ্চিমবঙ্গের কোনও এলাকাতেও এই প্রকল্পের সঙ্গে তারা যুক্ত নয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
কলকাতা হাই কোর্টে এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলা দায়েরের পর ইসকনকেও এই মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং মামলার নথিপত্র তাদের কাছে পৌঁছয়। সেই প্রেক্ষিতেই জুলাইয়ে দায়ের হওয়া মামলাটি নিয়ে পাল্টা অবস্থান জানাল ইসকন।
সংগঠনের বক্তব্য, কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল দেওয়ার কাজ করে ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’। এই সংস্থার পরিচালন কাঠামো এবং ইসকনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা। দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালন পর্ষদ, অছি পরিষদ কিংবা কাজের ধরনেও কোনও সাংগঠনিক যোগ নেই। ফলে অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের কাজের সঙ্গে ইসকনকে এক করে দেখা ঠিক নয় বলেই দাবি তাদের।
ইসকনের আরও বক্তব্য, মামলাকারী যে বিষয়গুলিকে সামনে রেখে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, তার সঙ্গে সংগঠনের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই। তাই মামলার পক্ষ হিসেবে তাদের রাখা অপ্রয়োজনীয়। আদালতের মামলার প্রক্রিয়া থেকে ইসকনের নাম সরিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
কলকাতার স্কুলে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া নিয়ে আগে থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। রাজ্য বাজেটে কলকাতা পুর এলাকার স্কুলগুলির জন্য ইসকনকে নিয়ে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে রাজ্যের আরও স্কুলে এই সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তোলে, ধর্মীয় সংগঠনকে স্কুলের খাবার সরবরাহের কাজে যুক্ত করা কতটা যুক্তিসঙ্গত। পাশাপাশি খাবারের তালিকা থেকে ডিম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, এর ফলে ছোট পড়ুয়াদের খাদ্যাভ্যাসে প্রভাব পড়তে পারে। যদিও কলকাতার বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছনো মিড-ডে মিলে ডিম থাকার বিষয়টি পরে সামনে আসে।
মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, এত দিন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা স্কুলের খাবার রান্না ও সরবরাহের কাজে যুক্ত ছিলেন। নতুন কোনও সংস্থাকে দায়িত্ব দিলে তাঁদের কাজ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নিয়ম মেনে দরপত্র ডাকা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও আদালতে তোলা হয়। তবে আগের শুনানিতে হাই কোর্ট এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও হস্তক্ষেপ করেনি। এবার মামলায় নিজেদের ভূমিকা অস্বীকার করে সরে যেতে চাইল ইসকন।


