কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার অফিসে হামলা ও দেওয়ালে গেরুয়া রং করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আল্ট নিউজের এক প্রতিবেদনে থেকে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখানো এবং দেওয়ালে গেরুয়া রং করার ঘটনায় বিজেপির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন স্থানীয় কর্মী ছিলেন। যদিও বঙ্গ বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দাবি করেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। সেই দাবি নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।
ঘটনাটি ঘটে ১ সেপ্টেম্বর। একদল গেরুয়া পোশাক পরা ব্যক্তি আনন্দবাজার পত্রিকার অফিসের মূল প্রবেশপথের কাছে জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অফিসের সামনের স্তম্ভে গেরুয়া রং লাগান। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনও কঠোর পদক্ষেপের ছবি সামনে আসেনি। বরং কয়েকজন পুলিশকর্মীকে গোটা ঘটনা মোবাইলে রেকর্ড করতে দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীরা ‘অপমান সহ্য করা হবে না’ এবং ‘আনন্দবাজার পত্রিকা হায় হায়’ বলে স্লোগান দেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই বিক্ষোভ। পরে পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যেও উঠে আসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী বিবেকানন্দের নাম। তাঁরা দাবি করেন, ওই জমি গেরুয়ার প্রতীক বহন করে।
এই ঘটনার সূত্রপাত মূলত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তিকে ঘিরে। গত ২১ আগস্ট আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘গেরুয়া গুণ্ডামি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ওই শব্দবন্ধ নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সংবাদপত্রটিকে ক্ষমা চাইতে বলেন।
২৮ আগস্ট যাদবপুরের এক সভায় শুভেন্দু বলেন, আনন্দবাজারকে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে গেরুয়া পোশাক পরা বহু সাধু প্রতিবাদে নামার জন্য প্রস্তুত। যদিও তিনি তাঁর বক্তব্যকে সংবাদমাধ্যমকে হুমকি দেওয়া বলে মানতে চাননি।
এদিকে আনন্দবাজার পত্রিকা ক্ষমা চাওয়া বা প্রতিবেদন প্রত্যাহারের পথে হাঁটেনি। বরং পরবর্তী প্রতিবেদনেও শুভেন্দুর বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। ঘটনার পর সংবাদপত্রের দফতরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অফিসে রং করার ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিজেপির সক্রিয় কর্মীরাও ছিলেন। তবে বিজেপির তরফে এখনও এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে কলকাতার রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।


