পঞ্জাবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডার নাম সেই তালিকায় নেই। তবে অন্য জায়গায় স্থায়ী ভাবে চলে গিয়েছেন, এমন ভোটারদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাঘব ও তাঁর পুরনো দল আম আদমি পার্টির মধ্যে।
নির্বাচন কমিশন গত ১৩ অগস্ট পঞ্জাবের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। এসআইআর-এর মাধ্যমে তালিকা যাচাইয়ের পর প্রায় ২০ লক্ষ ৬৬ হাজার নাম বাদ পড়েছে। প্রাথমিক তালিকার তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৯.৬৩ শতাংশ। মৃত ভোটার, ঠিকানা পরিবর্তন করা ব্যক্তি, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা ভোটার এবং একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তিদেরও বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই তালিকাতেই রাঘব চাড্ডার নাম দেখা গিয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাঘব। তাঁর অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র সরকারি কাজের ভুল নয়, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি দাবি করেন, আম আদমি পার্টি ছাড়ার পর থেকেই দলের নেতৃত্ব তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। সেই কারণেই প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে তাঁকে সমস্যায় ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
রাঘবের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে আপ। দলের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়াই নির্বাচন কমিশনের অধীনে। এই কাজে রাজ্য সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে কার নাম তালিকায় থাকবে বা বাদ যাবে, তা নিয়ে আপ সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলেই দাবি দলের।
আপ আরও অভিযোগ করেছে, রাঘব বেআইনি ভাবে দিল্লির ভোটার তালিকায় নিজের নাম নথিভুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই চেষ্টা সফল না হওয়ায় তিনি এখন পঞ্জাব সরকারকে দায়ী করছেন বলে কটাক্ষ করেছে কেজরীবালের দল।
রাঘব জানিয়েছেন, তিনি মোহালির বাসিন্দা এবং সেখানকার ভোটার হিসেবেই তাঁর নাম ছিল। ভোটার তালিকায় নাম ফের যুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে আবেদন করবেন তিনি। ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাম সংক্রান্ত দাবি বা আপত্তি জানানো যাবে। এরপর অক্টোবরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা নির্বাচন কমিশনের।
২০২২ সালে আপের প্রার্থী হিসেবে পঞ্জাব থেকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন রাঘব। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তিনি আপের আরও কয়েক জন রাজ্যসভার সাংসদের সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেন। পরে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তাঁদের বিজেপির সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। দলবদলের সময় রাঘব অভিযোগ করেছিলেন, আপ তার পুরনো আদর্শ থেকে সরে গিয়েছে। পাল্টা তাঁকে সুযোগসন্ধানী বলে আক্রমণ করেছিল আপ। ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন বিতর্কে সেই পুরনো রাজনৈতিক সংঘাতই ফের সামনে এসেছে।


