আগামী এক বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যাভারতী পরিচালিত অন্তত ১০০০টি স্কুল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় বিদ্যাভারতীর ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন তিনি। রাজ্যের প্রতিটি জেলা, পুরসভা এবং পঞ্চায়েত এলাকায় সংগঠনটির কাজ আরও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর বক্তব্য, পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশ, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষা’র উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলিতে বিদ্যাভারতীর স্কুল ও শিক্ষা কার্যক্রম আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ওই এলাকাগুলিতে ‘দেশবিরোধী কার্যকলাপ’ বেশি হচ্ছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে বিদ্যাভারতীর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।মাদ্রাসা শিক্ষার বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে আলাদা আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থা থাকা উচিত নয়। মাদ্রাসা শিক্ষা এবং অন্যান্য শিক্ষাকে একই ব্যবস্থার মধ্যে আনার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘এক দেশ, এক সংবিধান, এক পতাকা, এক নেতা’ নীতির কথাও উল্লেখ করেন। একই নীতি শিক্ষাক্ষেত্রেও কার্যকর হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের অধীনে রাখার বিষয়টিও প্রশ্ন করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যখন উচ্চশিক্ষা দফতরের অধীনে রয়েছে, তখন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা কেন থাকবে, তা স্পষ্ট নয়।সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের কৃতীদের সংবর্ধনা দেওয়ার সময় সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতর থেকে ২৭ জন মুসলিম পড়ুয়ার আলাদা তালিকা পাঠানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তাঁর প্রশ্ন, সব সম্প্রদায়ের কৃতী পড়ুয়াদের একসঙ্গে সম্মান জানানোর পর আলাদা করে এমন তালিকা পাঠানোর প্রয়োজন কেন হল।জাতীয় প্রতীক নিয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কয়েকটি স্কুলে জাতীয় সংগীত বা ‘বন্দে মাতরম্’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ গাওয়ার বিষয়ে আপত্তি দেখা দিয়েছে। সরকারি সাহায্য পাওয়া স্কুলগুলিকে নিয়ম মানার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।বিদ্যাভারতী দেশজুড়ে একাধিক স্কুল পরিচালনা করে। সেখানে সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ১০০০টি স্কুল গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে সংগঠনটির প্রভাব আরও বাড়বে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে মতভেদ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে স্কুলের পড়াশোনায় নির্দিষ্ট একটি আদর্শের প্রভাব বাড়তে পারে।
এক বছরে ১০০০ RSS-ঘনিষ্ঠ স্কুল! রাজ্যে আলাদা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
Popular Categories


