বিনা পারিশ্রমিকে অতিরিক্ত কাজ করার ক্ষেত্রে বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে ভারত। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য। এডিপি রিসার্চের ‘পিপল অ্যাট ওয়ার্ক ২০২৬’ রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কর্মী নিয়মিত নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজ করলেও তার জন্য কোনও অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পান না। কর্মক্ষেত্রে এই প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রিপোর্ট বলছে, ভারতের প্রায় ২৪ শতাংশ কর্মী প্রতি সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় অতিরিক্ত কাজ করেন। অথচ সেই বাড়তি শ্রমের জন্য তাঁদের আলাদা টাকা দেওয়া হয় না। শুধু এই অংশটিই নয়, আরও প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মী সপ্তাহে ৬ থেকে ১৫ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় দেন। তাঁদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত কাজের বিনিময়ে বাড়তি পারিশ্রমিক মেলে না।
আন্তর্জাতিক ছবিটিও অবশ্য খুব স্বস্তিদায়ক নয়। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ জানিয়েছেন, সপ্তাহে গড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত অতিরিক্ত কাজ করতে হয় তাঁদের। এর জন্য আলাদা অর্থ পান না তাঁরা। প্রায় ২৬ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে বাড়তি কাজের পরিমাণ সপ্তাহে ৬ থেকে ১৫ ঘণ্টা। আর ১২ শতাংশ কর্মী সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় অতিরিক্ত কাজ করেন।
সমীক্ষায় কর্মীদের কাজের সময় নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। অফিসের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক কর্মীকেই নির্ধারিত সময়ের পরেও কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এমনকি দুপুরের খাবারের বিরতিতেও কাজ করতে হচ্ছে বহু ক্ষেত্রে। কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সামনে দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে বিশ্রামের সুযোগও কমছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মীদের দীর্ঘ সময় অফিসে আটকে রাখলেই কাজের মান বাড়ে না। উল্টে অতিরিক্ত কাজের চাপ তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চললে কর্মীদের মধ্যে ক্লান্তি, বিরক্তি এবং কাজের প্রতি অনীহা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এর প্রভাব কর্মক্ষেত্রেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অতিরিক্ত চাপ সামলাতে না পেরে অনেক কর্মী অন্য চাকরির সুযোগ খুঁজতে শুরু করতে পারেন। ফলে কর্মীদের ধরে রাখা নিয়েও সমস্যায় পড়তে পারে বিভিন্ন সংস্থা। তাই শুধু কাজের সময় বাড়ানো নয়, কর্মীদের শ্রমের যথাযথ মূল্য দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় বিশ্রামের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


