রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতার একাধিক রাস্তার নাম পরিবর্তন হয়েছে। ইতিমধ্যেই সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদলে করা হয়েছে গোপাল মুখার্জি রোড। এবার লেনিন সরণি, কার্ল মার্কস সরণি এবং হো-চি-মিন সরণির মতো আরও কয়েকটি রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রের খবর।
নামকরণ মূল্যায়নের জন্য গঠিত উপদেষ্টা কমিটির সদস্য তথা বিজেপি নেতা তথাগত রায় জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে রাস্তার নাম পরিবর্তন নিয়ে কার্তিক মহারাজের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কমিটিতে প্রস্তাব পাশ হলে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে।
সূত্রের খবর, লেনিন সরণির নাম বদলে ভারতীয় জনসংঘের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি দেবপ্রসাদ ঘোষের নামে করার চিন্তাভাবনা চলছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পর জনসংঘের সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন দেবপ্রসাদ ঘোষ।
এ ছাড়াও আরও কয়েকটি রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তথাগত রায়। সম্ভাব্য নামগুলি হল—
- লেনিন সরণি: দেবপ্রসাদ ঘোষ সরণি।
- কার্ল মার্কস সরণি: রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় অথবা মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে নামকরণ।
- হো-চি-মিন সরণি: মার্টিন লুথার কিংয়ের নামে নামকরণের প্রস্তাব।
এ ছাড়াও কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোড বা মেয়ো রোডের নাম পরিবর্তন করে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নামে করার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বলে সূত্রের দাবি। তবে এই প্রস্তাবগুলি এখনও চূড়ান্ত নয়।
গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তার নামকরণ নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের পর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কলকাতায় মুঘল, পাঠান বা অত্যাচারী ব্রিটিশদের নামে নামকরণ থাকবে না। ভগিনী নিবেদিতা ছাড়া কোনও বিদেশির নামে রাস্তার নাম রাখার বিষয়েও আপত্তির কথা জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, এপিজে আব্দুল কালামের মতো কোনও প্রকৃত দেশভক্তের নাম প্রস্তাব করা হলে রাজ্য সরকার তা বিবেচনা করবে। রাস্তার নামকরণ মূল্যায়নের জন্য এরপর একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয় কার্তিক মহারাজকে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তথাগত রায়ও।
এখন দেখার, উপদেষ্টা কমিটির প্রস্তাবগুলি কতটা কার্যকর হয় এবং কলকাতার ঐতিহাসিক রাস্তার নাম পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।


