ভারতে খাবারের পছন্দ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়। তবে এবার সেই বিতর্কের রেশ পৌঁছে গেল আন্তর্জাতিক মঞ্চে। দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের নৈশভোজে বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের জন্য নিরামিষ খাবারের আয়োজন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, মানুষের ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসের বিষয়েও নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। সেই প্রবণতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অতিথিদের আপ্যায়নেও।
বিরোধীদের দাবি, ভারতীয়দের বড় অংশ আমিষ খাবার খান। ফলে দেশের খাদ্যসংস্কৃতির বৈচিত্রকে সামনে না রেখে নিরামিষ খাবারকেই বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়টি কেন রাজনৈতিক বা সরকারি সিদ্ধান্তের অংশ হয়ে উঠবে।
এই আবহেই রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি ভারতের মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। রাহুলের দাবি, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষ খাবার খান। ভারতীয় আমিষ খাবারের স্বাদ নিয়েও তিনি প্রশংসা করেন। নিজের বোনের তৈরি ছোলে ভাটুরের প্রসঙ্গ টেনে রসিকতাও করেন তিনি। পোস্টের সঙ্গে অবশ্য নিরামিষ ছোলে ভাটুরের একটি ছবিও দেন।
রাহুলের পোস্টে ব্রিকসের নৈশভোজের সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কংগ্রেসের মিডিয়া ও পাবলিসিটি বিভাগের প্রধান পবন খেরা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, দেশের মানুষের খাবারের পছন্দের উপর নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। এবার সেই একই মনোভাব বিদেশি অতিথিদের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
কংগ্রেসের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর প্রশ্ন, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অতিথিদের জন্য কী খাবার পরিবেশন করা হয়েছে, তা নিয়েও কেন রাজনীতি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ব্রিকসের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারা ভারতীয় নিরামিষ খাবার যথেষ্ট উপভোগ করেছেন। খাবারের তালিকায় স্বাদ, পুষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রান্নার বৈচিত্র রাখা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
এদিকে রবিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনওয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে বসেন রাহুল গান্ধী। সেই বৈঠকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। খাবার নিয়ে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই রাহুলের ওই বৈঠক নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নজর রয়েছে।


