জামুড়িয়ায় বিজেপির অন্দরে ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দলের এক নেতা সরাসরি অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় বিধায়কের কারণে তিনি ব্যবসার কাজে সমস্যার মুখে পড়ছেন। অন্যদিকে, বিধায়ক সেই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, কোনও নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। দুই পক্ষের বক্তব্য ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
অভিযোগকারী বিজেপি নেতা মুকেশ শর্মা দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন। বুথ সভাপতি থেকে শুরু করে শক্তিকেন্দ্র প্রমুখের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বালি ও পাথর সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাবি, আগেও রাজনৈতিক কারণে তাঁর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে বিজেপির সরকার থাকলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
মুকেশের বক্তব্য, ব্যবসার সমস্যা নিয়ে তিনি জামুড়িয়ার বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিধায়কের দফতরে গিয়ে তিনি দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী, দলের রাজ্য সভাপতি এবং জেলা সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
ব্যবসা চালানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা থেকে ঋণ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুকেশ। তাঁর আশঙ্কা, কাজের সুযোগ না পেলে সেই ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে জামুড়িয়া ছেড়ে নিজের আদি রাজস্থানেই ফিরে যেতে হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায় মুকেশের অভিযোগের পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কোন ব্যবসায়ী কোথায় ব্যবসা করবেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে কোনও নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই কারখানাগুলিকে বালি বা পাথর কিনতে নির্দেশ দেওয়ার দাবি তিনি মানেননি। বিধায়কের দাবি, এমন কোনও সুবিধা কাউকে দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
মুকেশের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, মুকেশের সঙ্গে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হরেরাম সিংহের ছেলের একাধিক ছবি রয়েছে। যদিও এই বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে স্বাধীনভাবে কোনও তথ্য সামনে আসেনি।
এর মধ্যেই বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার অভ্যন্তরীণ বিরোধও প্রকাশ্যে এসেছে। জামুড়িয়া ১ মণ্ডলে সংগঠনটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত বলে অভিযোগ। এক পক্ষের কর্মসূচিতে অন্য পক্ষের অনুপস্থিতি নিয়েও দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। অজয় নদীর বালি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে দলের একাংশের দাবি।


