পঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংকে ঘিরে। বিজেপিতে ক্রমশ গুরুত্ব হারাচ্ছেন পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী—এমন আলোচনার মধ্যেই এবার প্রকাশ্যে দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন অমরিন্দর। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি পুরনো দল কংগ্রেসে ফেরার পথ খোলা রাখছেন তিনি? যদিও এখনই বিজেপি ছাড়ার কোনও সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন।
পঞ্জাবের রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে অমরিন্দর সিংয়ের। কংগ্রেসের হয়ে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। গান্ধী পরিবারের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। রাজীব গান্ধীর সহপাঠী ছিলেন অমরিন্দর। সেই সূত্রে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও তাঁর পরিচিতি ও সুসম্পর্কের কথা রাজনৈতিক মহলে আলোচিত।
কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে ২০২১ সালে দল ছাড়েন অমরিন্দর। এরপর নিজের দল ‘পঞ্জাব লোক কংগ্রেস’ গঠন করেন। ২০২২ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোট করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাঁর দলের নির্বাচনী সাফল্য সীমিত ছিল। পরে নিজের দলকে বিজেপির সঙ্গে মিশিয়ে দেন তিনি। তাঁর ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন নেতাও বিজেপিতে যোগ দেন।
সম্প্রতি তরুণদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় রাহুল গান্ধীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিজেপির কোন নেতাকে তিনি সবচেয়ে পছন্দ করেন। উত্তরে রাহুল ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের নাম নেন। তাঁর সঙ্গে নিজের ভালো সম্পর্কের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি ভারতীয় সেনার ইতিহাস সম্পর্কে অমরিন্দরের জ্ঞানেরও প্রশংসা করেন রাহুল
রাহুলের এই মন্তব্যের পর থেকেই অমরিন্দরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তবে গান্ধী পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো থাকলেও তার অর্থ যে রাজনৈতিকভাবে কংগ্রেসে ফেরা নয়, তা স্পষ্ট করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাচ্ছে না বলে অভিযোগ করলেও এখনই দল ছাড়ার কোনও পরিকল্পনা নেই অমরিন্দরের। বরং তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল ও নেতাদের অবস্থান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তবে সেই কারণে এখনই অন্য দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না তিনি। কংগ্রেসে ফেরার সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেছেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ফলে অমরিন্দরের সাম্প্রতিক মন্তব্যে বিজেপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, আপাতত দলবদলের কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। পঞ্জাবের আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর অভিজ্ঞতাকে কতটা কাজে লাগায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।।


