ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বড় দাবি করলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও হাইওয়ে মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি। তাঁর দাবি, আগামী অক্টোবরেই ভারতের বাজারে আসতে চলেছে ১০০ শতাংশ ইথানলে চলা গাড়ি। এই গাড়ি চালাতে পেট্রোলের প্রয়োজন হবে না। তাঁর বক্তব্য, ইথানলচালিত এই গাড়ি চালানোর খরচ প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ২৫ টাকার সমান হতে পারে।
গডকড়ী জানিয়েছেন, অক্টোবর মাসে টয়োটার Innova Flex-Fuel গাড়ির উদ্বোধনে তাঁকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁর লক্ষ্য, দেশে এমন গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো, যা সম্পূর্ণ ভাবে ইথানলে চলতে পারে। তাঁর দাবি, গাড়িটি চলার সময় প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎও উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।
ইথানল নিয়ে সমালোচনার জবাবে গডকড়ী বলেন, বিশ্বের ১৯টি দেশে ইথানল ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতেও এখনও পর্যন্ত ইথানল ব্যবহারের কারণে কোনও অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি বলে দাবি করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে ইথানল নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠার কথাও সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারও আগে জানিয়েছিল, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে নির্দিষ্ট ধরনের অভিযোগ তাদের কাছে জমা পড়েনি।
শুধু টয়োটার Innova নয়, দেশে আরও একাধিক ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি বাজারে আনার প্রস্তুতি চলছে। জুন মাসে মারুতি সুজ়ুকি দেশের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির প্রোটোটাইপ সামনে আনে। ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি সাধারণত E20 থেকে শুরু করে উচ্চতর ইথানল মিশ্রণ এবং পেট্রোল—বিভিন্ন অনুপাতে জ্বালানি ব্যবহার করতে পারে।
গডকড়ী শুধু বিকল্প জ্বালানি নয়, দেশে অ্যাপ-নির্ভর বাইক ট্যাক্সি পরিষেবা বাড়ানোর পক্ষেও সওয়াল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এতে দু’চাকার মালিকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। গ্রামাঞ্চলেও যাতে অ্যাপ-ভিত্তিক বাইক ট্যাক্সি পরিষেবা চালু করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
গডকড়ীর মতে, এর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ১০০ শতাংশ ইথানলচালিত গাড়ির পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ও হাইড্রোজেনচালিত গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে পেট্রোল-ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।
ইথানলের ব্যবহার বাড়লে কৃষকরাও উপকৃত হবেন বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর মতে, ইথানল উৎপাদনের চাহিদা বাড়লে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।


