গুজরাটের কচ্ছ জেলায় একটি আবাসিক স্কুলে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। গত আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্কুলের হোস্টেলের বারান্দায় একটি প্রেগন্যান্সি কিট পড়ে থাকতে দেখেন এক শিক্ষক। প্রথমে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে সন্দেহ হলে কিটটি ওয়ার্ডেনের হাতে তুলে দেন। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, কিটটি মূলত স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পকেট থেকে পড়েছিল।
এই ঘটনার পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ওই প্রধান শিক্ষক একাধিকবার হোস্টেলের নির্জন স্থানে নিয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন। বিষয়টি জানার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষককে চাকরি থেকে সরিয়ে দিলেও থানায় কোনও অভিযোগ করেনি। উল্টে ছাত্রীর পরিবারকে বিষয়টি জানিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মেডিকেল পরীক্ষায় জানা যায়, ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা নয়।
এরপর ঘটনাটি স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২৫ সেপ্টেম্বর ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, যৌন হেনস্থার মতো গুরুতর অভিযোগে শুধু প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নিলেই হয় না, আইন অনুযায়ী থানায় জানানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই আবাসিক স্কুল কর্তৃপক্ষ সেই নিয়ম মানেনি। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হোস্টেলের পিছনে ওই ছাত্রীকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করা হয়। এখন পুলিশ ট্রাস্টি, প্রশাসক ও হোস্টেল ওয়ার্ডেনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।


