রাজনৈতিক দলের জন্য দেওয়া অনুদানকে ব্যবহার করে আয়কর ফাঁকির অভিযোগ উঠল বিজেপি শাসিত গুজরাটে। দীর্ঘ তদন্তের পর তিনটি নথিভুক্ত রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছে গুজরাট পুলিশের সিআইডি ক্রাইম শাখা। অভিযোগ, প্রায় ১,৮৭০ কোটি টাকার কথিত অনুদানের লেনদেনের মাধ্যমে সরকারি রাজস্বের ৫৬০ কোটিরও বেশি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর গান্ধীনগর জোনের সিআইডি ক্রাইম এই মামলাগুলি করে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে প্রতারণা, ষড়যন্ত্র এবং জাল নথি ব্যবহারের মতো বিষয়। মামলায় দলগুলির কয়েকজন পদাধিকারী এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদেরও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ায় প্রথমে করদাতারা চেক বা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলির অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতেন। বিনিময়ে তাঁরা অনুদানের রসিদ পেতেন। সেই রসিদ দেখিয়ে আয়কর আইনের ৮০জিজিসি ধারার সুবিধা নিয়ে কর কমানোর দাবি করা হত।
এর পর ওই টাকা কয়েকটি সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। খাদ্যশস্য বা অন্যান্য পণ্য কেনার নামে তৈরি করা হত ভুয়ো বিল। পরে সেই টাকা নগদে তুলে নেওয়া হত। অভিযোগ, নির্দিষ্ট হারে কমিশন রেখে বাকি অর্থ নগদে আগের দাতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হত। এই লেনদেনকে বৈধ দেখাতে তৈরি করা হয়েছিল ভুয়ো হিসাব ও অডিটের কাগজপত্র বলেও তদন্তকারীদের দাবি।
তিনটি মামলার মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল বা বিএনজেডিকে ঘিরে। আয়কর বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৫৬,২৩৮ জনের কাছ থেকে দলটি ১,১৪৩.৮৫ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছিল। এর ফলে প্রায় ৩৪৩ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ। দলের সভাপতি সুরেন্দ্রকুমার বিষ্ণুভাই গজেরা, সাধারণ সম্পাদক বিপুল সোলাঙ্কি, কোষাধ্যক্ষ রোনাকসিংহ চাভড়া এবং সিএ আদিল সৈয়দের নাম মামলায় রয়েছে।
স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টির বিরুদ্ধে প্রায় ৫১৯ কোটি টাকার কথিত ভুয়ো অনুদান এবং ১৫৫ কোটি টাকার কর ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। অন্য দিকে, গরিব কল্যাণ পার্টির ক্ষেত্রে অনুদানের পরিমাণ প্রায় ২০৬.৭৬ কোটি টাকা এবং সম্ভাব্য কর ক্ষতি প্রায় ৬২ কোটি টাকা বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, যথাযথ হিসাব যাচাই না করেই কিছু অডিট রিপোর্ট তৈরি ও ডিজিটাল সই করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া কিছু নথিতেও অসঙ্গতি ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
এই তিন দলই ২০১৭ সাল থেকে গুজরাটের বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। ২০২৬ সালের উমরেঠ উপনির্বাচনেও বিএনজেডির এক প্রার্থী ছিলেন এবং তিনি ৭৭৩ ভোট পেয়েছেন। এখন সিআইডি লেনদেনের নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির তথ্য খতিয়ে দেখছে। মামলাগুলির পরবর্তী তদন্তের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলি আদালতে প্রমাণিত হবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।


