ওড়িশায় আদিবাসী মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য পরিচিত চিকিৎসক ডা. র্যান্ডাল সেকুইরার গ্রেফতারিকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে দলিত অধিকার আন্দোলনের কর্মী লক্ষ্মণ নায়েককেও। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একাধিক নাগরিক সংগঠন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সংগঠন। তাঁদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপের ফলে আদিবাসী ও দলিত মানুষের জমি, জঙ্গল এবং জীবিকার অধিকার রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের উপর চাপ বাড়তে পারে।গত ১৬ অক্টোবর কালাহান্ডি জেলার ভবানীপাটনায় সেকুইরার বাড়ি থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত এপ্রিল মাসে পাশের রায়গড়া জেলার কান্তামাল গ্রামে গ্রামবাসীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। খুনের চেষ্টা, দাঙ্গা এবং অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় তাঁদের অভিযুক্ত করেছে পুলিশ।পুলিশের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের সংগঠিত করার পাশাপাশি নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলায় উসকানি দিয়েছিলেন সেকুইরা। তবে এই অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, এপ্রিলের সংঘর্ষের তদন্তের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি করা হয়েছে। খনিবিরোধী আন্দোলন থামানোর জন্য তাঁদের গ্রেফতার করা হয়নি বলেও দাবি পুলিশের।সেকুইরা দীর্ঘদিন ধরে কালাহান্ডি ও রায়গড়া জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় আদিবাসীদের চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। দারিদ্র, যোগাযোগের অসুবিধা এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভাবে এই এলাকার বহু মানুষ চিকিৎসা পান না। DApRA এবং স্বাস্থ স্বরাজের মতো জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।তবে তাঁর কাজ শুধু রোগের চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মানুষের সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ জল, সুস্থ পরিবেশ এবং জীবিকার নিরাপত্তাকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করতেন। এই বিষয়গুলি নিয়েই আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি।দক্ষিণ ওড়িশার সিজিমালি পাহাড়ে প্রস্তাবিত বক্সাইট খনিকে ঘিরেও দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় আদিবাসীদের একাংশ। তাঁদের আশঙ্কা, খনির কাজ শুরু হলে জঙ্গল, জলের উৎস, চাষের জমি এবং চিরাচরিত জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এপ্রিল মাসে কান্তামাল গ্রামে গ্রামবাসীদের জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছিল। সেই ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা এবং পরবর্তী গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন সংগঠন। কনসার্নড সিটিজেনস কমিটি, রাইট টু ফুড ক্যাম্পেন এবং মেডিকো ফ্রেন্ড সার্কেল এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সিজিমালির খনির বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত আন্দোলনের আগে সেকুইরাকে রায়গড়া জেলায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার প্রশাসনিক নির্দেশ খারিজ করেছিল ওড়িশা হাই কোর্ট। আদালত জানিয়েছিল, ওই নিষেধাজ্ঞা যুক্তিসংগত ছিল না। তবে সেই রায়ের ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থেকে অব্যাহতি মেলেনি।বর্তমানে সেকুইরার বিরুদ্ধে মামলাটি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি। এই গ্রেফতারিকে ঘিরে আদিবাসীদের অধিকার এবং খনিবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আদিবাসীদের চিকিৎসা করতে ওড়িশায় গিয়েছিলেন, খনিবিরোধী আন্দোলনে যোগের অভিযোগে আজ জেলবন্দি চিকিৎসক!
Popular Categories


