অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত সিয়াং বাঁধ প্রকল্পকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। প্রকল্পের বিরোধিতায় আন্দোলন চলাকালীন শুক্রবার রাতে পাসিঘাটে হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে NHPC-র অফিস ও একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন লাগানো, দুই বিধায়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভাঙচুর চালানো হয় রাজ্য বিজেপি সভাপতির বাড়িতেও। সংঘর্ষে ৪০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহতদের মধ্যে এক ডেপুটি পুলিশ সুপারও রয়েছেন। তাঁর মাথায় আঘাত লাগায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে অসমের ডিব্রুগড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংঘর্ষে এক বিক্ষোভকারীও আহত হয়েছেন।
প্রস্তাবিত ১১,২০০ মেগাওয়াটের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (SUMP)-এর বিরোধিতায় কয়েকটি সংগঠনের ডাকা ১২ ঘণ্টার বন্ধকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতির সূত্রপাত। শুক্রবার বিকেল ৫টায় বন্ধ শেষ হলেও উত্তেজনা কমেনি। অভিযোগ, এরপরেও বিক্ষোভের জেরে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শনিবার ভোরের দিকে বিক্ষোভকারীরা এলাকা ছেড়ে চলে যান। এই ঘটনায় অন্তত ন’টি পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর।
পাসিঘাটের সেন্ট্রাল রেঞ্জের আইজি হিবু তামাং জানিয়েছেন, পাথর ছোড়ার ঘটনায় ৪০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্মীরাও। এক ডেপুটি পুলিশ সুপারের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় তাঁকে ডিব্রুগড়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশের দাবি, ‘জেন জ়ি’ নামে পরিচয় দেওয়া একটি যুবগোষ্ঠী মেবো এলাকা থেকে এসে পাসিঘাট-বোলেং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানালেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ। পরে ২০০ থেকে ৩০০ জনের কয়েকটি দল পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে বলে দাবি প্রশাসনের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।
ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন আইজি হিবু তামাং। তাঁর বক্তব্য, হিংসার ঘটনার ভিডিয়ো ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। কারা এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন এবং কারা উস্কানি দিয়েছিলেন, তা চিহ্নিত করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।
অন্যদিকে, সিয়াং বাঁধ প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও আদিবাসী সংগঠনগুলির একাংশের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জমি ও জীবিকার উপর প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি পরিবেশ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির ক্ষতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা বন্ধ করতে হবে, গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের মুক্তি দিতে হবে এবং এলাকায় মোতায়েন কেন্দ্রীয় ও আধাসামরিক বাহিনীকে সরিয়ে নিতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে হিংসা ও সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য আন্দোলনকারী সংগঠনগুলিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসে প্রকল্পের সম্ভাব্য সুবিধা ও ক্ষতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সকলের রয়েছে, তবে হিংসা ও সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সব মিলিয়ে, সিয়াং বাঁধ প্রকল্প ঘিরে পরিবেশ, জমি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের মধ্যে পাসিঘাটের এই সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন প্রশাসনের তদন্ত এবং সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির আলোচনার দিকে নজর রয়েছে।


