Thursday, October 29, 2026
27 C
Kolkata

নতুন শিক্ষকদের রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞা, তা হলে শিক্ষক থেকে মন্ত্রী হওয়া কি ভুল? শুভেন্দু ঘোষনায় বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে দীপক বর্মন!

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলে নতুন করে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না। বুধবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন শিক্ষকদের পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধানসভা কিংবা লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সরকারের এই ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষামহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের অন্যান্য রাজ্যেও সরকারি শিক্ষকদের সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। স্কুলের পড়াশোনার পরিবেশ ঠিক রাখা এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে রাজনীতির প্রভাব থেকে দূরে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর। তবে বর্তমানে যাঁরা শিক্ষকতা করার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এখনই এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।এই সিদ্ধান্তের পরেই প্রশ্ন উঠেছে, শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে আসা কি তা হলে ভুল? রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন নিজেও আগে স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। এ ছাড়া রাজ্যের একাধিক বিধায়ক ও মন্ত্রীও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিধায়কদের মধ্যে অনেকেই তাঁদের নির্বাচনী হলফনামায় শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফলে নতুন নিয়মের সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক জীবনের তুলনা টেনে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষকদের একাংশ।বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানের পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্কুলশিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকেরা শিক্ষক সংগঠন গড়তে পারেন, তবে তা অরাজনৈতিক হওয়া উচিত। কিন্তু বিজেপির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক সংগঠনগুলির ক্ষেত্রে এই নিয়ম কী ভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর দেননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারাই বলতে পারবেন।সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষক সংগঠনের একাধিক নেতা। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারীর প্রশ্ন, ভবিষ্যতে শিক্ষকেরা যাতে নিজেদের দাবি নিয়ে প্রতিবাদ করতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই কি এই ব্যবস্থা? তাঁর আশঙ্কা, শিক্ষার সমস্যা বা পেশাগত দাবি নিয়ে আন্দোলন করলেও সেটিকে রাজনৈতিক কাজ বলে গণ্য করা হতে পারে।বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষকরা সাধারণ সরকারি কর্মচারী নন। তাই তাঁদের ওপর এ ধরনের বিধিনিষেধ চাপানোর আইনি অধিকার সরকারের রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তিনি আরও বলেন, স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিচালন ব্যবস্থাকে সত্যিই রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত করতে চাইলে সেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও সরকারকে ভাবতে হবে।মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনার সম্পাদক অনিমেষ হালদারও এই ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে বহু শিক্ষক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শিক্ষা ও রাজনীতিকে পুরোপুরি আলাদা করে দেখা যায় না। শিক্ষকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে আন্দোলনের পথেও হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।অন্যদিকে, বিজেপির এক শিক্ষক নেতা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিকের দাবি, শিক্ষাকে রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত করতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।

Hot this week

মোদীর বারাণসীতে ফের ধাক্কা বিজেপির, বিধান পরিষদের দ্বিতীয় আসনেও জয়ী সমাজবাদী পার্টি! গণনা শেষের আগেই হার স্বীকার পদ্মপ্রার্থীর

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে বিধান পরিষদের নির্বাচনে...

ট্রেনে রাতভর মোবাইল চার্জে দিয়ে ঘুম? ১১টা বাজলেই বন্ধ হবে চার্জিং পয়েন্ট, রেলের নতুন নিয়ম কার্যকর!

ট্রেনে যাতায়াতের সময় মোবাইল বা পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জে বসিয়ে...

নাগপুরে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে কংগ্রেসের জয়, আরএসএসের গড়ে হারতেই ফড়নবীশকে কটাক্ষ হাত শিবিরের

মহারাষ্ট্রে বিধান পরিষদের নির্বাচনে মাত্র একটি আসনে জিতেছে কংগ্রেস।...

Topics

নাগপুরে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে কংগ্রেসের জয়, আরএসএসের গড়ে হারতেই ফড়নবীশকে কটাক্ষ হাত শিবিরের

মহারাষ্ট্রে বিধান পরিষদের নির্বাচনে মাত্র একটি আসনে জিতেছে কংগ্রেস।...

কর্ণাটকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বড় ধাক্কা, এসআইআর-এ বাদ গেল ১ কোটিরও বেশি নাম!

কর্ণাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া...

Related Articles

Popular Categories