রাজ্যসভার ভেতরে আম আদমি পার্টির সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আম আদমি পার্টি এবার তাদের রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে রাঘব চাড্ডা-কে সরানোর আবেদন জানিয়েছে। এ বিষয়ে রাজ্যসভার সচিবালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়েছে বলে খবর।
শুধু পদ থেকে সরানোই নয়, দল আরও জানিয়েছে যে, রাজ্যসভায় তাদের বরাদ্দ সময়ের মধ্যে চাড্ডাকে আর বক্তৃতার সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দলীয় কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চাড্ডার জায়গায় নতুন ডেপুটি লিডার হিসেবে অশোক মিত্তাল এর নাম প্রস্তাব করেছে দল। খুব শীঘ্রই এই নিয়োগ কার্যকর করার জন্যও সচিবালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যসভায় আপের মোট ১০ জন সাংসদ রয়েছেন, যার মধ্যে পাঞ্জাব থেকে সাতজন এবং দিল্লি থেকে তিনজন।
রাঘব চাড্ডা দলের শুরু থেকেই আপের সঙ্গে যুক্ত। ২০১২ সালে অরবিন্দ কেজরিওয়াল-এর সঙ্গে দিল্লির লোকপাল বিল নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। ২০১৫ সালে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের পর তিনি দলের কনিষ্ঠ কোষাধ্যক্ষ হন এবং জাতীয় মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ দিল্লি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। পরে ২০২০ সালে রাজেন্দ্র নগর থেকে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হন। এরপর দিল্লি জল বোর্ডের সহ-সভাপতি হিসেবেও কাজ করেন। ২০২২ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে তিনি রাজ্যসভার সদস্য হয়ে নজর কেড়েছিলেন।
সংসদের ভেতরে বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরার জন্য চাড্ডা প্রায়ই শিরোনামে থাকেন। সম্প্রতি তিনি পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচিত মহিলা সদস্যদের পরিবর্তে তাঁদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা ক্ষমতা প্রয়োগ করেন—এই প্রবণতা বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
এছাড়াও, মাসিক স্বাস্থ্য ও সচেতনতা নিয়েও সংসদে সরব হন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্য নয়, শিক্ষা ও সমতার সঙ্গেও জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এই সব কিছুর মাঝেই দলের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তুলছে। কেন হঠাৎ করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। ফলে আপের অন্দরমহলের সমীকরণ নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হচ্ছে।


