উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এক প্রাক্তন সেনাকর্মীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রায় তিন দশক দেশসেবার পরও তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় উদ্বেগে পড়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।
এই প্রাক্তন জওয়ানের নাম আজাদ আলি। তিনি দীর্ঘদিন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নিয়েছেন। জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং গত বছর সুবেদার পদে অবসর নেন। দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি কার্গিল যুদ্ধের মতো কঠিন পরিস্থিতিতেও অংশ নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ‘অপারেশন বিজয়’ ও ‘অপারেশন পরাক্রম’-এর মতো অভিযানের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
কিন্তু এত বছরের পরিষেবার পরেও এখন তাঁকেই নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি প্রকাশিত সংশোধিত ভোটার তালিকায় তিনি দেখেন, তাঁর নাম আর নেই। শুধু তাঁরই নয়, পরিবারের আরও দু’জনের নামও বাদ পড়েছে। অথচ আগের তালিকাগুলিতে তাঁদের নাম ছিল এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিও তাঁদের কাছে রয়েছে।
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন আজাদ আলি। তাঁর কথায়, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করার পরেও যদি এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, যাঁদের কাছে পর্যাপ্ত নথি নেই, তাঁদের জন্য এই ধরনের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে তাঁকে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছিল। পরে সংশোধিত তালিকায় সরাসরি নাম মুছে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর থেকেই পরিবারে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ব্লক লেভেল অফিসার (BLO) জানিয়েছেন, তাঁরাও বিষয়টি নিয়ে দুঃখিত। তবে নিয়ম মেনে এখন ট্রাইবুনালে আবেদন করাই একমাত্র পথ। সেখানেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বাদুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুকৃতি সরকার দাবি করেছেন, পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই চলছে। তাঁর মতে, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে আবেদন করলেই সমাধান মিলবে।
তবে এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, এত বছর দেশের সেবা করার পরেও যদি একজন প্রাক্তন সেনাকর্মী এমন সমস্যায় পড়েন, তাহলে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার কতটা সুরক্ষিত—তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা শুরু হয়েছে।


