Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

সরকারি কর্মীদের মুখ বন্ধ করতে ‘স্বৈরাচারী’ ফতোয়া নতুন বিজেপি সরকারের! প্রতিবাদে সরব একাংশ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পর এখনও এক মাসও পার হয়নি, অথচ এর মধ্যেই রাজ্যের নতুন শাসক দল সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত হানতে শুরু করেছে। সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে কথা বললে বা সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে এক নজিরবিহীন ফতোয়া জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন। গত বুধবার মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালের সই করা একটি বিতর্কিত নির্দেশিকা রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এই কড়া নির্দেশিকায় সাফ জানানো হয়েছে যে, সরকারের আগাম অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মচারী, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্কুলশিক্ষক, পুরসভা ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীরা কোনো সংবাদমাধ্যম বা রেডিওর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না। এমনকি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারের কোনো তথ্য প্রকাশ করা বা সরকারের কোনো সিদ্ধান্তের প্রকাশ্যে সমালোচনা করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিজেপি সরকারের এই দমনমূলক এবং স্বৈরাচারী আদেশের বিরুদ্ধে রাজ্যের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের একাংশ তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে অবিলম্বে এই কালো বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

এই সরকারি ফতোয়াকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও একনায়কতান্ত্রিক বলে আখ্যা দিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষাবিদরা। প্রথম সারির এক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন যে, বিশ্বের নানা প্রান্তে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও কোনো গণতান্ত্রিক দেশে শিক্ষকদের ওপর এমন ফতোয়া জারি হতে তিনি দেখেননি। কোনো উসকানিমূলক মন্তব্য বা গোপন সরকারি নথি ফাঁস করা অপরাধ হতে পারে, কিন্তু সুস্থ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকারের কোনো ভুলের সমালোচনা করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সংবিধান প্রদত্ত এই বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে বিজেপি সরকার আসলে ভয় পেয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুটা-র রাজ্য সম্পাদক নিলয়কুমার সাহা এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, একটি অগণতান্ত্রিক সরকারকে সরিয়ে যে দল গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, তারা এসেই এভাবে মানুষের মুখ চেপে ধরবে তা মেনে নেওয়া যায় না।

স্কুলশিক্ষকদের মধ্যেও এই তুঘলকি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের মতে, রাজ্যের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কাজে তাঁরা সরকারকে সমর্থন করতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু কোনো ভুল পদক্ষেপের সমালোচনা করার পথ বন্ধ করে দিলে রাজ্যে আর কোনো গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকবে না। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল এই নির্দেশিকা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, যে সরকার গণতন্ত্রের বুলি আউড়ে ক্ষমতায় এল, তারা ১৫ দিন কাটার আগেই শিক্ষকদের বাক্‌স্বাধীনতার কণ্ঠ রোধ করতে নেমে পড়ল। এটি আসলে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থনের পিঠে এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যের শিক্ষকরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নির্দিষ্ট আচরণ বিধি মেনে চলেন, তাই সরকারের এই স্বৈরাচারী নির্দেশ মানার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা তাঁদের নেই। যদিও প্রশাসনের একাংশ দাবি করছে যে এটি কোনো নতুন আইন নয়, বরং পুরনো আইনকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ক্ষমতায় এসেই বিরোধীদের এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখাই এখন এই ফ্যাসিবাদের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories