দেশের আদিবাসী স্কুলগুলির পরিকাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের গঢ়চিরোলি থেকে ‘আদিবাসী স্কুল ঠিক করো’ অভিযান শুরু করতে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর প্রায় ৮০ বছর ধরে আদিবাসী শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি সরকারগুলি যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।
সিজেপির দাবি, দেশজুড়ে আদিবাসী পড়ুয়ারা উপেক্ষা ও বৈষম্যের শিকার। তাঁদের সমস্যাগুলি সরকারের নজরে আনতেই এই অভিযান। এর আগে শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলির উন্নয়নের দাবিতে জাতীয় স্তরে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি শুরু করেছিল দলটি।
নাগপুরে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনাসভার আগে দীপকে জানান, এ বার তাঁদের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য আদিবাসী স্কুলগুলির উন্নয়ন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক দলগুলি কোটি কোটি টাকা খরচ করে সদর দফতর তৈরি করলেও আদিবাসী স্কুলগুলির জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ করা হয় না। অনেক স্কুল ভাড়াবাড়িতে চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দীপকে বলেন, “শুধু শহুরে বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়ারাই দেশের ভবিষ্যৎ নয়। গ্রামাঞ্চল ও আদিবাসী স্কুলগুলির দিকেও সরকারকে নজর দিতে হবে।”
মহারাষ্ট্রে গত দু’বছরে ৫৯০ জন আদিবাসী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। প্রত্যন্ত এলাকায় সাপের কামড়ে ছাত্রছাত্রীদের মৃত্যুর ঘটনাতেও সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শহরাঞ্চলে একই ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হত।
এ ছাড়া মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটে গত দু’মাসে ৩০ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন দীপকে। ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড থেকেও আদিবাসী ছাত্রমৃত্যুর খবর আসছে বলে জানান তিনি। মৃতদের পরিবারগুলি সরকারি ক্ষতিপূরণ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আদিবাসীদের জন্য তৈরি ৭২০টি একলব্য মডেল স্কুলের মধ্যে ৪৭৭টি বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে বলে দাবি করেন দীপকে। তাঁর প্রশ্ন, “তা হলে আদিবাসী পড়ুয়ারা কোথায় পড়াশোনা করবে?”
উচ্চশিক্ষায় আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার মাত্র ২২.৮ শতাংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আইআইটিতে মাত্র ১৩০ জন তফসিলি উপজাতি (এসটি) আবেদনকারী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। আইআইটিতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ভর্তি এবং আদিবাসী শিক্ষকের সংখ্যা এত কম কেন, সেই প্রশ্ন তুলে এই পরিস্থিতিকে বৈষম্যের উদাহরণ বলে অভিহিত করেন দীপকে।


