ডিলিমিটেশন বা লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের চাপ আরও বাড়ল। এবার সরাসরি বিরোধিতার পথে হাঁটল বিজেপিরই জোটসঙ্গী এআইএডিএমকে। তামিলনাড়ু বিধানসভায় ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে দলটি। ফলে সংসদে এই সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানো নিয়ে কেন্দ্রের সামনে নতুন করে রাজনৈতিক বাধা তৈরি হয়েছে।ডিলিমিটেশন হলে জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিভিন্ন রাজ্যের লোকসভা আসনের সংখ্যা বদলাতে পারে। দক্ষিণের রাজ্যগুলির আশঙ্কা, এতে তাঁদের আসন কমে যেতে পারে। সেই কারণেই তামিলনাড়ু-সহ একাধিক রাজ্য শুরু থেকেই প্রস্তাবিত পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করে আসছে।বুধবার তামিলনাড়ু বিধানসভায় ডিলিমিটেশন নিয়ে একটি প্রস্তাব পেশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, কেন্দ্র যে পদ্ধতিতে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে, তা রাজ্যের স্বার্থের পক্ষে নয়। বিশেষ করে আসন কমে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। একই সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ আইনকে ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত করারও বিরোধিতা করা হয়েছে।তামিলনাড়ু সরকারের বক্তব্য, মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইন ইতিমধ্যেই ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হয়েছে। তাই ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই সেটি কার্যকর করা যেতে পারে। তবে তার জন্য বর্তমান ৫৪৩টি লোকসভা আসনের কাঠামো বজায় রাখার দাবি জানানো হয়েছে। অর্থাৎ আসনের সংখ্যা না বাড়িয়ে সেই সংখ্যার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের পুনর্বিন্যাস করার কথা বলা হয়েছে।সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই প্রস্তাবে শাসক দল ডিএমকে-র পাশাপাশি বিরোধী দল এআইএডিএমকেও সমর্থন করেছে। ফলে তামিলনাড়ু বিধানসভায় প্রায় সর্বসম্মতভাবে কেন্দ্রের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। বিজেপির জন্য বিষয়টি অস্বস্তিকর, কারণ এআইএডিএমকে বর্তমানে তাদের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণী জোটসঙ্গী।লোকসভায় এআইএডিএমকের কোনও সাংসদ নেই। তবে রাজ্যসভায় দলের চারজন সদস্য রয়েছেন। ফলে সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাশ করানোর ক্ষেত্রে প্রতিটি সমর্থনই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিল পাশ করতে সংসদের দুই কক্ষেই বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।এদিকে ডিএমকেও স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা ডিলিমিটেশনের বর্তমান পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে এবং অবস্থান বদলাবে না। ফলে দক্ষিণের রাজ্যগুলির আপত্তি কেন্দ্রের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।ডিলিমিটেশন কার্যকর করার সাংবিধানিক ক্ষমতা কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকলেও রাজ্যগুলির রাজনৈতিক বিরোধিতা বিষয়টিকে জটিল করে তুলতে পারে। একের পর এক রাজ্য যদি একই অবস্থান নেয়, তাহলে বিলটি সংসদে পাশ করানো বিজেপি সরকারের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
Popular Categories


