পুরনো দিল্লির আনন্দ বিহার রেলওয়ে স্টেশনে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ)-এর বিরুদ্ধে এক প্রবীণ মহিলাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর ও অপমান করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ৭২ বছরের বসিরান বিবি তার ছেলে শেখ ইসরাফিল এবং ১৭ বছরের নাতি শেখ সেলিমকে নিয়ে হলদিয়াগামী ট্রেন ধরতে স্টেশনে আসেন। ইসরাফিল প্ল্যাটফর্ম টিকিট কাটেন এবং তার মা সাধারণ টিকিট নেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ আনন্দ বিহার–হলদিয়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস প্ল্যাটফর্মে ঢোকার পর ইসরাফিল মাকে বসার জায়গা খুঁজে দিতে কামরায় ওঠেন।
পরিবারের অভিযোগ, সেই সময় আচমকা কয়েকজন আরপিএফ কর্মী ইসরাফিলকে মারতে শুরু করেন এবং বলপূর্বক ট্রেন থেকে নামিয়ে দেন। বসিরান বিবি বাধা দিতে গেলে তাকেও ধাক্কা দেওয়া হয় বলে দাবি। তাদের আরও অভিযোগ, মারধরের সময় তাদের ধর্ম নিয়ে অপমানও করা হয়। ইসরাফিলের দাড়ি ধরে টানা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তার মা।
পরিবারের দাবি, ইসরাফিল ও সেলিমকে প্রায় তিন ঘণ্টা আরপিএফ পোস্টে আটকে রাখা হয়। তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও টিকিট কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। মারধরের কারণে সেলিম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ১১২ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাওয়া হয়। একাধিক সরকারি হাসপাতালে ঘোরার পর শেষ পর্যন্ত লাল বাহাদুর শাস্ত্রী হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়।
এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের দাবিতে বসিরান বিবি দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও আরপিএফের ডিরেক্টর জেনারেলের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন।
অন্যদিকে, আনন্দ বিহারের আরপিএফ ইন্সপেক্টর শৈলেন্দ্র কুমার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, কিছু যাত্রী সিট দখল করে অন্যদের বসতে দিচ্ছিলেন না। তাই রেল আইনের ১৫৫ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরপিএফ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলছে।


