শিল্পপতি অনিল আম্বানিকে ঘিরে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কর্মচারীদের ভবিষ্যনিধি সংস্থা (ইপিএফও)-র বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) একটি এফআইআর দায়ের করেছে। এই মামলায় অনিল আম্বানির পাশাপাশি কয়েকজন সরকারি আধিকারিক এবং আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এখন পুরো বিনিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট নথি খতিয়ে দেখবে তদন্তকারী সংস্থা।সিবিআই সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক গত ২১ জুলাই প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সিবিআই প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং পরে এফআইআর নথিভুক্ত করে।অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে ইপিএফও রিলায়েন্স ক্যাপিটালের সুরক্ষিত নন-কনভার্টিবল ডিবেঞ্চারে মোট ২,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। এই বিনিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সংস্থার পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় ইপিএফও বিষয়টি নিয়ে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালের (এনসিএলটি) দ্বারস্থ হয়। ট্রাইব্যুনালের অনুমোদনের পর ২০২৪ সালে সংস্থাটি প্রায় ১,৪৯২ কোটি টাকা ফেরত পায়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এখনও প্রায় ১,০০৭ কোটি টাকা মূলধন এবং প্রায় ৮০৯ কোটি টাকা সুদ বকেয়া রয়েছে। এই বকেয়া অর্থ মিলিয়েই ইপিএফও-র প্রায় ১,৮১৬.২২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।এই আর্থিক ক্ষতির জন্য দায় নির্ধারণ করতে সিবিআই এখন সমস্ত নথিপত্র, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখবে। তদন্তের পর প্রয়োজন হলে আরও আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে অনিল আম্বানির পক্ষ। তাঁর মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই এফআইআর মূলত রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেডকে ঘিরে দায়ের করা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে নয়। তিনি দাবি করেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অনিল আম্বানি সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় এবং নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু হয়।মুখপাত্রের আরও দাবি, অনিল আম্বানি কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আইনি মোকাবিলা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হবে।এই ঘটনায় দেশের অন্যতম বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইপিএফও-র বিনিয়োগ নীতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানা গিয়েছে।
Popular Categories


