বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দেওয়ার ঘটনা নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ব্যাঙ্ক অফ বরোদা গত ছয় অর্থবর্ষে ৩৫ হাজার ৭১৫ কোটি টাকার অনাদায়ী ঋণ হিসেবের খাতা থেকে বাদ দিয়েছে। ২০২০-২১ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণ নেওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এই হিসাব প্রযোজ্য।তথ্য জানার অধিকার আইনে করা এক আবেদনের জবাবে এই পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। পুণের সমাজকর্মী বিবেক ভেলঙ্কর ব্যাঙ্কের কাছে এই সংক্রান্ত তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতেই ঋণ বাদ দেওয়ার মোট অঙ্ক প্রকাশ্যে এসেছে। তবে কোন কোন ব্যক্তি বা সংস্থা এই বিপুল ঋণ নিয়েছিল, তাঁদের নাম জানাতে রাজি হয়নি ব্যাঙ্ক অফ বরোদা।ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে, আরটিআই আইনের নির্দিষ্ট ধারায় ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। সেই কারণেই ঋণগ্রহীতাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এত বড় অঙ্কের টাকা কারা নিয়েছিলেন এবং তাঁদের কাছ থেকে কতটা অর্থ আদায় করা সম্ভব হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।ব্যাঙ্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ হাজার ৭১৫ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৯ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা ফেরত পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ মোট বাদ দেওয়া ঋণের এক-তৃতীয়াংশেরও কম অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।ঋণের একটা অংশ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে ব্যাঙ্ক হিসেবের খাতা থেকে তা সরিয়ে দেয়। তবে এর অর্থ ঋণগ্রহীতাকে পুরোপুরি ঋণমুক্ত করে দেওয়া নয়। সম্পত্তি বিক্রি বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে সমঝোতার সময় ব্যাঙ্ককে কিছু টাকা ছাড়ও দিতে হয়। এই ছাড়ের পরিমাণকেই সাধারণভাবে ‘হেয়ারকাট’ বলা হয়। ব্যাঙ্ক অফ বরোদার ক্ষেত্রে গত ছয় বছরে এই ধরনের ছাড়ের অঙ্কও ৭ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবর্ষে হিসেব থেকে বাদ দেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই দুই বছরে যথাক্রমে ১১ হাজার ৯১৬ কোটি এবং ১১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা খাতায় রাখা হয়নি।কেন্দ্র আগেও একাধিকবার জানিয়েছে, কোনও ঋণ হিসেব থেকে বাদ দেওয়া মানেই ঋণ মাফ করে দেওয়া নয়। কিন্তু উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ মোট অঙ্কের তুলনায় কম হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কতগুলি ঋণের নিষ্পত্তি হয়েছে, সেই তথ্যও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্যাঙ্ক সেই হিসাব প্রকাশ করেনি।আরটিআই জবাবে কয়েকটি অর্থবর্ষে মকুবের অঙ্ক অবশ্য জানা গিয়েছে। ২০২০-২১ সালে ২,৩৩১ কোটি, ২০২১-২২ সালে ৩,১৩২ কোটি এবং ২০২২-২৩ সালে ১,৮৩১ কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছিল। তবে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা শুধু ছয় বছরের তথ্য দিয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময়ের সামগ্রিক চিত্র এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
Popular Categories


