দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। লোকসভা নির্বাচনের পরে বিজেপির শক্তি বাড়ায় বিরোধী দলগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। শুধু ভোটে হার নয়, এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের দলকে একসঙ্গে ধরে রাখা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক আঞ্চলিক দলে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি এখন বিরোধী দলগুলিকে দুর্বল করার কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে ওড়িশার বিজু জনতা দল। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে থাকা এই দল এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে। দলের প্রধান নবীন পট্টনায়েক চেষ্টা করলেও নেতাদের একসঙ্গে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি দলের রাজ্যসভার সাংসদ দেবাশিস সামান্তারি পদ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এর ফলে রাজ্যসভায় বিজেডির শক্তি আরও কমে গেল। আগামী বছরের পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ওড়িশায় বিজেপির বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী এখন প্রায় নেই বললেই চলে। কংগ্রেস ও বিজেডি, দুই দলই নেতৃত্বের সমস্যায় ভুগছে।
একই ছবি দেখা যাচ্ছে বিহারেও। লালুপ্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দলও ধাক্কা খেয়েছে। দলের মহিলা সংগঠনের প্রাক্তন নেত্রী রিতু জয়সওয়াল নিজের সমর্থকদের নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে বিহারের রাজনীতিতেও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির পরবর্তী বড় লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চলছে বলেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন। শোনা যাচ্ছে, তৃণমূলের একাধিক সাংসদ ও বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বড় ধরনের দলবদল হতে পারে বলেও জল্পনা চলছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এই সব খবরকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের তরফে জানানো হয়েছে, এগুলি শুধুই রাজনৈতিক গুজব।
সম্প্রতি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কেউ দল ছাড়তে চাইলে তাঁকে আটকানো হবে না। এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক আলোচনা আরও বেড়েছে। কারণ, কয়েকজন নেতার নাম ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির এমন কার্যকলাপ ভারতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত আশঙ্কা জনক বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ দাবি করছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যগুলিতে বিরোধীশূন্য পরিবেশে বিজেপির একচেটিয়া আধিপত্য গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
এদিকে ঝাড়খণ্ডও এখন বিজেপির নজরে। আগামী ১৮ জুন রাজ্যসভা নির্বাচন রয়েছে সেখানে। সংখ্যার হিসাবে বিজেপি পিছিয়ে থাকলেও তারা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজেপির দাবি, তাদের প্রার্থী জিতবেন। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা অভিযোগ করেছে, বিজেপি বিধায়কদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছেও অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
তেলেঙ্গানাতেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। ভারত রাষ্ট্রীয় সমিতির দাবি, তাদের কয়েকজন বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বিজেপি সেখানে প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে উঠতে চাইছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
পাঞ্জাবেও পরিস্থিতি আলাদা নয়। আগামী বছরের নির্বাচনের আগে আম আদমি পার্টিকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলগুলিকে ভেঙে বিজেপি নিজেদের প্রভাব আরও বাড়াতে চাইছে। সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতিতে এখন বড় প্রশ্ন একটাই—আঞ্চলিক দলগুলি নিজেদের অস্তিত্ব কতটা ধরে রাখতে পারবে?


