কুরবানির আগের মহারাষ্ট্রের থানে এলাকায় একটি আবাসনে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ছাগল আনা এবং তা রাখার জন্য অস্থায়ী কাঠামো তৈরিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক পরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, আবাসনের মুসলিম বাসিন্দারা ঈদ উপলক্ষে কুরবানির জন্য কয়েকটি ছাগল নিয়ে আসেন। পশুগুলি রাখার জন্য আবাসনের ভিতরে অস্থায়ীভাবে একটি ছাউনি তৈরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়টি নিয়ে আবাসনের অন্য কিছু বাসিন্দা আপত্তি জানান। পরে খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন স্থানীয় কয়েকজন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্য ও নেতারা।
তাঁরা আবাসনের ভিতরে ওই কাঠামো তৈরির বিরোধিতা করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করলে পুরসভার কর্মীরা এসে সেই অস্থায়ী ছাউনিটি ভেঙে দেন। তবে অভিযোগ, কিছু সময় পরে সেটি আবার তৈরি করা হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে।
সোমবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। হর্ষ সিং নামে এক যুবক আহত হন। অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পরদিন সকাল থেকে আবাসনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা। সেখানে হনুমান চালিসা পাঠ করা হয় এবং বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ওই ভিড়ের মধ্যেই এক যুবককে মারধর করা হয়। অন্যদিকে, হামলাকারীদের দাবি, আগের রাতের ঘটনায় ওই যুবকের ভূমিকা ছিল।
ঘটনার সবচেয়ে বিতর্কিত দিক সামনে আসে পরে। অভিযোগ, কুরবানির প্রতিবাদ জানাতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী একটি শূকর নিয়ে আবাসনের সামনে হাজির হন। তা ঘিরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে পড়ে। শূকরটিকে সরানোর সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয় বলে অভিযোগ।
দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। বর্তমানে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। গোটা আবাসন ও আশপাশের এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একে অপরকে দোষারোপ করতে শুরু করেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।


