দেশজুড়ে NEET পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে এই প্রতিবাদ এখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ কমাতে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বুধবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। তাঁর বক্তব্য, পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা পরীক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করবে বা তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
তবে আন্দোলনের অন্যতম বড় দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে সেই ইস্যুতে সরকারের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয় বলে মনে করছে বিরোধী শিবির।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, গত এক দশকে বহু পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা সামনে এলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি। এই তথ্য তুলে ধরে তিনি সরকারের জবাবদিহি দাবি করেন এবং পরীক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এই পরিস্থিতিতে সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি-সহ একাধিক দলের সাংসদরা পরীক্ষা সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফেরানোর দাবি তুলে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। আগামী দিনে এই বিষয়টি নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলিও নিজেদের অবস্থানে অনড়। তাদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় দেশের ছাত্রসমাজ। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র-যুব সংগঠন।
সব মিলিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ, সংসদীয় বিতর্ক এবং রাস্তায় প্রতিবাদের আবহে কেন্দ্রের নতুন ঘোষণাগুলি কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের।


