শ্রাবণ মাসে কাঁওয়ার যাত্রাকে ঘিরে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভক্তদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। কৃষ্ণ চতুর্দশী ও শ্রাবণ শিবরাত্রি উপলক্ষে রাজ্যের বহু সড়ক এখন তীর্থযাত্রীদের দখলে। এই পরিস্থিতিতে যান চলাচল ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে কয়েকটি জেলার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত ভিড়, যানজট এবং আইনশৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মিরাট, গাজিয়াবাদ এবং বাগপত জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত পঠনপাঠন বন্ধ থাকবে। এর আগে একই ধরনের নির্দেশ জারি করা হয়েছিল মুজাফ্ফরনগর জেলাতেও। ফলে কয়েকদিনের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে কাঁওয়ার যাত্রার সময় উত্তরপ্রদেশ সরকার তীর্থযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুবিধার ব্যবস্থা করেছে। যাত্রাপথে পানীয় জল, খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় আকাশপথ থেকে ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে ভক্তদের স্বাগত জানানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তবে এই আয়োজনের মাঝেই কয়েকটি অশান্তির ঘটনাও সামনে এসেছে। সোমবার লখনউয়ের ওল্ড সিটির চক থানার চড়ক ক্রসিং এলাকায় একটি স্কুল ভ্যান ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। জানা গিয়েছে, ভিড়ের মধ্যে একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে স্কুল ভ্যানের সামান্য ধাক্কা লাগার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কয়েকজন কাঁওয়ারযাত্রী ভ্যানটিকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রায় দুই মিনিট ধরে ভ্যানের উপর হামলা চলে। সেই সময় ভ্যানে থাকা ছাত্রছাত্রীরা আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়ে। যদিও এই ঘটনায় কোনও পড়ুয়া আহত হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভ্যানটির কাচ ভেঙে গিয়েছে এবং রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভয় পেয়ে কাঁদছে কয়েকজন ছাত্রী।
লখনউ পুলিশের পশ্চিম বিভাগের ডিসিপি কমলেশ কুমার দীক্ষিত জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
একই দিনে লখনউয়ের মালিহাবাদের কাসমান্ডি এলাকায় আরও একটি ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগ, নিজেদের ‘লক্ষ্মণ আর্মি’-র সদস্য পরিচয় দেওয়া কয়েকজন কাঁওয়ারযাত্রী একটি মসজিদের দিকে গঙ্গাজল ছিটানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় এক হিন্দুত্ববাদী নেতা দাবি করেন, ওই স্থানে বহু আগে একটি শিবমন্দির ছিল, সেই বিশ্বাস থেকেই দূর থেকে গঙ্গাজল ছিটানো হয়েছে। যদিও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জ্ঞানেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, ওই দলটি কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর সেখান থেকে চলে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।


