প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে সম্প্রতি উদ্বোধন হয়েছিল দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়ে। অত্যাধুনিক এই রাস্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং উত্তরাখণ্ড প্রশাসন বড়সড় প্রচারও চালিয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হওয়া এই ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়েটি ২১০ কিলোমিটার দীর্ঘ। গত ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন হয়। সেই সময় উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি দাবি করেছিলেন, এই রাস্তা রাজ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ। আগে দিল্লি থেকে দেরাদুন যেতে দীর্ঘ সময় লাগলেও, এখন অনেক কম সময়ে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছিল।
উদ্বোধনের সময় এক্সপ্রেসওয়ের উপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে দেখা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে। দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও সেই ছবি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই রাস্তারই একটি অংশে গর্ত তৈরি হওয়ার অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে কয়েকটি ছবি ও ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার ধারে ব্যারিকেডের পাশে মাটি ধসে গিয়ে একটি অংশ বসে গিয়েছে। এক ব্যক্তি পা দিয়ে চাপ দিতেই আরও কিছুটা অংশ ভেঙে নীচে নেমে যায়। সেই ভিডিও সামনে আসতেই নেটমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় প্রকল্পে এত টাকা খরচ হওয়ার পরেও কীভাবে এত দ্রুত রাস্তার এই অবস্থা হল। কেউ কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, এখনও বর্ষা শুরু হয়নি। তার আগেই যদি রাস্তার এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে বর্ষাকালে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
এই ঘটনা নিয়ে বিরোধী মহলও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে নানা পোস্ট করতে দেখা গিয়েছে অনেককে। সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এদিকে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বা কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।


